ফেসবুকে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক, তবু যখন দেখা হল দুজনেই অজ্ঞান হয়ে গেল, কেন জানেন ?

ভারতের বরেলিতে এক যুবক ও যুবতীর আলাপ হয় ফেসবুকে। এটা তো জত্রতত্রই হচ্ছে এ আর এমন কি ? কিন্তু এখানে একটু ব্যতিক্রম , দুজনেই খুলেছিলেন ফেক আইডি আর তাতেই জুটে যায় মনের মত এক বন্ধু … প্রথমে সাধারন কথা, বিভিন্ন আলাপ , সেই আলাপ ক্রমশ ঘনিয়েছে রসালো কথাবার্তায়। যেখানে দেদার এসেছে শরীর, মন, একাকীত্ব এবং আর যা যা এই সব চ্যাটের ক্ষেত্রে আসা উচিত।

এর পরে যা হয় আর কী! দূরত্ব কি আর সয়? দু’জনে স্থির করেন, এইবারে দেখা করতেই হবে। শরীর-মন সব ছুটেছে পাগলা ঘোড়ার মতো। আটকাবে কে! আটকাল নিয়তি। আর কী-ই বা বলা যেতে পারে?

দেখা হতেই দু’জনের প্রায় অজ্ঞান হওয়ার জোগাড়। এ কী দেখছেন চোখের সামনে! কাকে দেখছেন! মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্বামী-স্ত্রী। ফেসবুকে দু’জনেই ফেক প্রোফাইল খুলেছিলেন । দু’জনেই জানিয়েছিলেন, ‘‘আনম্যারেড’’।

পুলিশ পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে। কী বলছে পুলিশ? যে অফিসারের তত্ত্বাবধানে বিষয়টি রয়েছে, মুচকি হেসে তিনি বলছেন, ‘‘ফেসবুকে তো আজকাল এমন বন্ধুত্ব হামেশাই হয়। কিন্তু কপাল পোড়া হলে পরিণতি এমন হয়।’’

একটু পড়বেন প্লিজ – রিক্সা চালাই।বিয়ে করেছিলাম এক বছর আগে আমার মতই এক গরীবের মেয়েকে….!

রিক্সা চালাই।বিয়ে করেছিলাম আজ থেকে এক বছর আগে।আমার মতই এক গরীবের মেয়েকে বউ করে এনেছিলাম আমি!অভাবের সংসারটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে নিয়েছিলো ও।বুঝতে পারি বউ আমায় খুব ভালবাসে। আমি যখন রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরি,ও আমার জন্য গোসলের পানি তুলে দেয়।মাঝেমাঝে আমিও অবশ্য তুলে দেই।

বাড়িতে কারেন্ট নাই,খেতে বসলে ও পাখা দিয়ে বাতাস করে। গরমের রাতে দুজনে অদল বদল করে পাখা দিয়ে বাতাস করি,ভবিষ্যৎটাকে সাজানোর গল্প করি দুজনে। গল্প করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে যেতাম বুঝতে পারতামনা। রিক্সায় বড় বড় সাহেবরা তাদের বউকে নিয়ে উঠত। দুজনে মিলে অনেক গল্প করত।

সাহেবদের কাছে শুনতাম তারা যেদিন বিয়ে করেছে সেদিন আসলে তারা নাকি অনুষ্ঠান,পার্টি না কি জানি করে।এই সব আমার জানা নেই। যখন শুনতাম আমারো ইচ্ছে করত বউকে একটা শাড়ী কিনে দিতে। বউকে যে খুব ভালবাসি আমি।কিন্তু পারিনা। অভাবের সংসার,দিন আনি দিন খাই।তাই একটা মাটির ব্যাংক কিনেছিলাম।

ওটাতে রোজ দু’চার টাকা করে ফেলতাম।দেখতে দেখতে অভাবের সংসারে আজ একটা বছর হয়ে গেল। আজ সকালে রিক্সা নিয়ে বের হবার আগে বউ যখন রান্না ঘরে গেল তখন বউকে না জানিয়ে লুকিয়ে রাখা মাটির ব্যাংকটা বের করে ভেঙ্গে দেখলাম সেখানে প্রায় ৪৮০ টাকা হয়েছে। বাসা থেকে বের হবার আগে বউকে বলেছিলাম,আজ বাড়িতে ফিরতে দেরী হবে!

বউ মাথা নাড়ে,বলে ভালো কইরা থাকবেন। চলে গেলাম রিকশা নিয়ে। সারাদিন রিক্সা চালিয়ে সন্ধ্যা সাতটায় মার্কেটে গিয়েছিলাম বউয়ের জন্যে একটা শাড়ী কেনার জন্য। আজ রাতে বউকে দিব। ঘুরে ঘুরে অনেক শাড়ীই দেখছিলাম,পছন্দ হয় কিন্তু দামের জন্য বলতে পারিনা। অবশেষে দোকানীকে বললাম, –ভাই এই কাপড়টার দাম কত? –১৫০০ টাকা। আমার কাছে তো আছে মাত্র ৪৮০ টাকা।

তাই ফিরে আসলাম।মার্কেট থেকে বের হয়ে বাহিরে বসে থাকা দোকানদারদের থেকে ৪৮০ টাকায় একটা শাড়ী কিনে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। মাঝেমধ্যে ভাবি,এই দোকানগুলো যদি না থাকত,তাহলে কত কষ্ট হত আমাদের মত গরিবদের! ফুরফুরে মেজাজে বাড়িতে ঢুকলাম। অনেকদিন পর বউকে কিছু একটা দিতে পারব,ভাবতেই বুকটা খুশিতে ভরে উঠছে বারবার।

রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পরার ভান করে শুয়ে আছি। বারটা বাজার অপেক্ষায় চোখ বন্ধ করে আছি। কল্পনার জগতে ভাসছিলাম,বউকে দেবার পর বউ কি বলবে,কতটা খুশি হবে? রাত বারটা বেজে গেল…। বউকে ডেকে তুললাম। ডেকে তুলে বউয়ের হাতে শাড়ীটা তুলে দিয়ে বললাম,বউ অভাবের তাড়নায় তোমায় কিছু দিতে পারিনা, তাই আজ তোমার শাড়িটা এনেছি। তোমার কি পছন্দ হয়েছে?? বউ চোখের জল ফেলে, আমায় জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো আমার কিছুই চাই না, আমি শুধু আপনার ভালোবাসা চাই। সত্যি এটাই হলো প্রকৃত ভালোবাসা…..

আপনার কাছে পোষ্ট টি কেমন লেগেছে সংক্ষেপে কমেন্টেস করে জানাবেন ৷ T=(Thanks) V= (Very good) E= (Excellent) আপনাদের কমেন্ট দেখলে আরো ভালো ভালো পোষ্ট দিতে উৎসাহ পাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *