Saturday , January 28 2023

৫১টি সতী পীঠের প্রধান শক্তিপীঠ হলো এই কামাখ্যা মায়ের ধাম..

৫১ টি শক্তিপীঠ বা সতীপিঠের এর মধ্যে কামাখ্যা একটি হলেও বাকি ৫০ টির চেয়ে সবচেয়ে ইতিবাচক বলে মনে করা হয় কামাখ্যা সতী পীঠকে।কামাক্ষা দেবীর এই সতীপিঠে কোন সাধক তান্ত্রিক পদ্ধতিতে একবার জপ ও পূজা করলে তার আর পুনর্বার জন্মলাভ করতে হয় না।অন্যান্য তান্ত্রিক দেবদেবীদের পোস্ট করার আগে মা কামাখ্যা কে নিয়ে পোস্ট করার এটাই কারণ যে……. কামাক্ষ্যা মা কে তন্ত্রের জননী ও কামাখ্যা ধাম কে তন্ত্রের আঁতুড়ঘর বলা হয়। এবং যেখানে অবস্থান করছে একত্রে দশজন মহাবিদ্যা। তান্ত্রিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী ৫১টি সতী পীঠের প্রধান শক্তিপীঠ হলো এই কামাক্ষ্যা ধাম। কামাখ্যা তান্ত্রিক ও শাক্ত বিশ্বাস অনুযায়ী মহাশক্তির আধার।

কামাখ্যা মাতার মন্ত্র –
কামাখ্যা মাতা “ওঁ কামাক্ষে বরদে দেবী নীলপর্ব্বতবাসিনী।
ত্বং দেবী জগতাং মাত যোনিমুদ্রে নমোহস্তুতে।। নমস্ত্রিশূলহন্তায় উমানন্দায় বৈ নমঃ প্রসীদ পার্বতীনাথ উমানন্দ নমোহস্তুতে।।”

কামাখ্যা সতীপীঠের রহস্যঃ
পুরাণ অনুযায়ী দক্ষ রাজার যজ্ঞের যখন সতী দেহ ত্যাগ করে স্বয়ং শিব সতীর সেই পোড়া ঝলসানো দেহ কাঁধে নিয়ে ত্রিভুবন প্রলয়ের সূচনা করে। এমন অবস্থায় সমস্ত দেবতারা জগৎপতি শ্রী বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলে স্বয়ং বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খন্ড বিখন্ড করে দেয়। সতীর দেহ খন্ড গুলি ৫১ ভাগে ভাগ হয়ে যায় (কালিকা পুরাণ অনুযায়ী ১০৮ টি)। সেখানে তৈরি হয় একটি করে পীঠ যেখানে সেই দেহের খন্ড গুলি পড়েছিলো………শাস্ত্রীয় ভাষায় যাকে সতীপীঠ বলা হয়।

কামাখ্যাধামঃ সতীর বিশেষাঙ্গ বা যোনী পতিত হয় আসামের নীলাচল পর্বতে যেখানে দেবী কামাক্ষা যোনী রূপে অধিষ্ঠান করছেন। তান্ত্রিকদের ভাষা অনুযায়ী গুপ্ত বিদ্যা মহাবিদ্যা তন্ত্রের নিগূঢ় থেকেও নিগূঢ়তম এবং অলৌকিক বা অতি অপ্রাকৃতিক সব বিদ্যা এই কামাখ্যা ধামে বসেই সিদ্ধ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়।

যাদুটোনার আতুড়ঘর হলো কামাখ্যাঃ
আসাম রাজ্যের গুহাটি কেন্দ্রিক নীলাচল পর্বতের এই প্রাচীন কামাখ্যা মাতার মন্দির কে ঘিরে রয়েছে যাদুটোনা, ব্ল্যাক-ম্যাজিক, মন্ত্র-তন্ত্র ইত্যাদি অনেক গল্প কথা অনেক প্রচলিত মিথ। তো সেসবে পরে আসছি….😁 তো এই কামাখ্যা মাতা আসলে ষোড়শী… মাতঙ্গী… ও কমলার মিলিত রূপ। তবে কামাখ্যা মাতা আসলে তৃতীয় মহাবিদ্যা ষোড়শী বা ত্রিপুরা সুন্দরীরই এক উগ্র প্রকাশ। এবং মাতা বীরাচারে (বামাচারের অন্তর্গত) পূজিতা। তবে দেবী কামাখ্যার তান্ত্রিক পূজা পন্থা অতি গোপনীয় সেই কারণে অপর কোন তন্ত্রাচারীসাধক ছাড়া সাধারণ ব্যক্তির সামনে দেবীর বিশেষ পুজো অনুষ্ঠান করলে সাধক কে দেবীর অভিশাপের ভাগীদার হতে হয়।

কামাখ্যা দেবীর পূজা পদ্ধতিঃ
নীলাচল পর্বতে অবস্থিত কামাখ্যার মন্দিরের গর্ভগৃহে কামাখ্যা মাতা একটি যোনী আকৃতির শিলায় নিত্য পূজিত হয় কোন মূর্তিতে নয়। এবং অন্যান্য মন্দিরের মহাবিদ্যারাও একইভাবে পূজিত হয় যোনী আকৃতি শিলামন্ডলে কেবল ব্যতিক্রম দেবী উগ্ৰতারা। এর কারণ জগৎগুরু শঙ্করাচার্য এই কামাক্ষা ধামে দেবী তারার কোনো অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে পারেননি। সেই কারণে দেবী তারাকে শিলা রূপে পূজা করা হয় কামাক্ষা ধামে। আর বাকি ৯জন(কালি-তারা- ষোড়শী -ভৈরবী- ছিন্নমস্তা- ধূমাবতী -বগলামুখী- মাতঙ্গী- কমলা) নীল পর্বতের অবস্থান করলেও পীঠের পাশে থাকা বিষ্ণু পর্বতে একদম চূড়ায় অবস্থান করেন চতুর্থ মহাবিদ্যা দেবী ভুবনেশ্বরী। দেবী এখানে মহামুদ্রা রূপে বা যোনী মুদ্রা রূপে অবস্থিত হওয়ার কারণে মহাশক্তির আঁধার এই কামাখ্যায় অলৌকিক এবং অপ্রাকৃতিক সমস্ত তান্ত্রিক সাধনা অতি ফলপ্রদ। এই কামাক্ষা ধাম বিশেষ করে যক্ষিণী সাধনা, কাম ও কামিনী সাধনা গুপ্ত রহস্য বিদ্যা এবং মহাবিদ্যা সহিদ অন্যান্য তান্ত্রিক তান্ত্রিক দেব দেবী সাধনার জন্য একদম উত্তম স্থান। সবথেকে বড় কথা তান্ত্রিক সাধকেরা কামাখ্যা মায়ের দুয়ারে ছুটে যায় মায়ের সাধনায় রত হয় বিশেষ শক্তি অর্জন এবং কামের ঊর্ধ্বে ওঠার জন্য তথা কাম কে জয় করার জন্য। তবে এখানে বলে রাখা ভালো দেবী সাধনা এবং রহস্যভিত্তিক পূজা বিধি সৎ ও উচ্চকোটি সাধকের জন্যই। কামাখ্যা ধামে সাধনা করে সাধক দেবীর কৃপা ও কাম শক্তি কে জয় করতে পারবে। আবার ভুলভাল করলে বিপরীতভাবে কাম মোহতে জড়িয়ে দেবীর অভিশাপের শিকার হবে ও রসাতলে পতিত হবে। মা কামাখ্যার বিবরণ অনুযায়ী দেবী ১৬ বছর বয়সি নতুন যৌবন সম্পন্না।মুখ মন্ডল অতিউজ্জ্বল এবং সদা প্রসন্ন এবং নানা অলংকারে এবং রক্ত বস্ত্রে ভূষিত। ত্রিলোকের মধ্যে সবথেকে সুন্দরী এই কামেশ্বরী দেবী কামদেব ও রতি দেবীর আরাধ্যা।আবার কামাখ্যা পীঠের ধ্যান মূর্তি অনুযায়ী কামাখ্যা দেবী সিংহের উপর শায়িত শব-রূপী শিবের নাভি কমলে হৃদয়ের ওপর ডানপা অবস্থান করছে দেবীর হাতে সুধা পাত্র বা কারণ-পাত্র ও অভয় মুদ্রা এবং অন্যান্য ১০টি হাতে যথাক্রমে…… চক্র,পদ্ম ত্রিশূল, ধনু,ঢাল, শঙ্খ, গদা, খেটক, খড়গ ও অঙ্কুশ। দেবীর ছটি মাথা এবং বারোটি হাত স্বয়ং প্রজাপতি ব্রহ্মা এবং শ্রী হরি দেবীর বন্দনায় রত। এই হল কামাক্ষা দেবীর মোটামুটি বর্ণনা যদিও সাধক ভেদে আলাদা আলাদা ধ্যান প্রচলিত রয়েছে। যেমন কোন স্থানে দেবী শব শরীরে অধিষ্ঠান করছে গলায় নর মন্ডমালা আবার কোথাও বা মহাকালের সঙ্গে বিপরীত রতিতে আসক্ত ইত্যাদি ইত্যাদি।

Check Also

মুসলিম মহিলার হাতে শক্তির দেবীর আরাধনা, কালীপুজো ঘিরে এগাঁয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে

এক মুসলিম মহিলার হাতে পূজিত হন মা কালী। তাঁর হাতেই এপুজোর শুরু। বছরের পর বছর ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.