Tuesday , December 6 2022

৩ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে টিউশনি করা মেয়েটাই আজ ম্যাজিস্ট্রেট

ক্লাস এইট পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়েননি শিল্পী মোদক। মা-ই ছিলেন তার শিক্ষক।হবিগঞ্জের রামকৃষ্ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী হিসেবে তিনি জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেন সে সময়কার প্রধান শিক্ষক শিল্পীর নাম স্কুলের দেয়ালে লিখে রাখেন।

সেই প্রধান শিক্ষক আজ বেঁচে নেই, কিন্তু তার প্রিয় ছাত্রী শিল্পীর নাম আজও স্কুলের দেয়ালে আছে।সেই মেধাবী শিল্পীই ৩৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রা’প্ত হয়েছেন। স্কুলের পরীক্ষায় সবসময় প্রথম হয়েছেন শিল্পী। পরিবারে আর্থিক অনটন ছিল,

কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে মা ছেলেমে’য়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতেন, কিন্তু ভালো ফলাফলের জন্যই শিল্পীকে স্কুলে বেতন দিতে হতো না;এমনকি শিক্ষকরাই তাকে বই দিতেন। স্কুলে সবসময় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা ও গানে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।

২০০৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় দারিদ্র্যকে খুব ভালোভাবে বুঝতে শেখেন।তখন থেকেই টিউশনি শুরু। সিলেট স’রকারি ম’হিলা কলেজে ভর্তির পর প্রতিদিন মেহেন্দীবাগ এলাকার বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে কলেজে আসতেন।

কলেজের শিক্ষকরা আন্তরিক ছিলেন, এদের মধ্যে বিনাবেতনে প্রাইভেট পড়িয়েছেন কয়েকজন। ২০০৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ভর্তি হন শিল্পী। তবে যেহেতু বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলেন, তাই বাংলা ছেড়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন উদ্ভিদ রো’গতত্ত্ব ও বী’জবিজ্ঞান বিভাগে।

কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে মা ছেলেমে’য়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতেন, কিন্তু ভালো ফলাফলের জন্যই শিল্পীকে স্কুলে বেতন দিতে হতো না;এমনকি শিক্ষকরাই তাকে বই দিতেন। স্কুলে সবসময় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা ও গানে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।

Check Also

চাকরি পেয়েই মায়ের শখ মেটালেন, চড়ালেন বিমানে ! সেলুট এই সন্তানকে !

শিপনের উঠে আসার গল্পটা অনেক সংগ্রামের। শুরু হয়েছিল সেই ১০ বছর বয়সে। রিকশা চালিয়ে প্রথম ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.