Thursday , February 9 2023

সাতটি হাতি মিলেও নড়াতে পারেনি শ্রীকৃষ্ণের নাড়ু ! গল্পটা পড়ে দেখুন

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মাখনের নাড়ু, সেই নাড়ুর এতটাই শক্তি যে সাতটি হাতি মিলেও এক চুলও নড়াতে পারেনি। যদিও এই রহস্যের সমাধান এখনো হয়নি। ভারতের তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরমে রয়েছে এই শ্রীকৃষ্ণের মাখনের নাড়ু। আসলে এটি একটি গ্রানাইট প্রস্তরখন্ড। তবে এর আশ্চর্য গুণের জন্য প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক এখানে ভিড় জমান। এই বিশেষ পাথরটিকে বলা হয় কৃষ্ণের মাখন নাড়ু বা কৃষ্ণাজ বাটার বল। যদিও এর একটি অপর নাম আছে , ‘ বাণ ইরাই কল ‘, তামিল ভাষায় আবার অনেকে বলেন ‘ভনিরাই কাল ‘ যার অর্থ আকাশ দেবতার পাথর।

এই আশ্চর্য পাথরকে ঘিরে রয়েছে নানান গল্প। পাথরটাকে আশ্চর্য বলা হয় কেন ? কারণ প্রায় ১২০০ বছর ধরে মাত্র দু ফুট ঢালু জায়গায় পাথরটি ৪৫ ডিগ্রি কোণে অবস্থান করছে। দেখে মনে হবে এই বুঝি পাথরটা গড়িয়ে মাটিতে পড়ল। ২৫০ টন ওজন হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে বছরের পর বছর ৪ ফুট উচ্চতায় ঢালু জায়গায় পাথরটি রয়েছে ? এর উত্তর মানুষ খুঁজে পায়নি বলেই হয়তো পর্যটকদের এত সরগরম এখানে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকেও যেন ভুল প্রমাণিত করে দেয় এই পাথরটি। এটি কুড়ি ফুট উঁচু এবং পাঁচ ফুট চওড়া। অতীতে দক্ষিণ ভারতের পল্লব বংশের রাজা নরসিংহ বর্মন পাথরটিকে মনে করতেন স্বর্গীয় শিলা রূপে। তাই তিনি ভেবেছিলেন এই পাথর মানুষের সংস্পর্শে থাকা ভালো নয়।

সিদ্ধান্ত নেন পাথরটিকে সরিয়ে ফেলবেন। কিন্তু তার বহু চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে স্বস্থানেই পাথরটি থেকে যায়। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজের গভর্নর এই শ্রীকৃষ্ণের মাখনের নাড়ুটিকে সরানোর জন্য সাতটি হাতি নিয়ে আসেন। সাতটি হাতির সম্মিলিত গায়ের জোরও হেরে যায় এই পাথরটির শক্তির কাছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সবথেকে প্রিয় খাবার ছিল মাখন আর নাড়ু। আঞ্চলিক মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী এই পাথরটি হলো যশোদা নন্দনের প্রিয় খাবারের প্রতীক। এই পাথরটি নাকি স্বর্গ থেকে সরাসরি মর্তে এসে পড়ে। পাথরটি সবথেকে বেশি পরিচিত কৃষ্ণের মাখনের নাড়ু নামে।

Check Also

মুসলিম মহিলার হাতে শক্তির দেবীর আরাধনা, কালীপুজো ঘিরে এগাঁয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে

এক মুসলিম মহিলার হাতে পূজিত হন মা কালী। তাঁর হাতেই এপুজোর শুরু। বছরের পর বছর ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.