Friday , December 9 2022

শিব নিয়ে এই ৫ টা জিনিস না জানলে আর শিবরাত্রি করে হবে কী!

আজ শিবরাত্রি। হিন্দু মেয়েরা শিব লিঙ্গে জল ঢালবেন। প্রার্থনা করবেন, তাঁর যেন শিবের মতো স্বামী হয়। একেবারে কচি থেকে থুড়থুড়ে বুড়ি, নারী মনে শিবের জন্য তিন রুমের ছোট্ট ফ্ল্যাট নয়, একেবারে গোটা আবাসনটাই। কিন্তু কে এই শিব? কেনই বা তাঁকে নিয়ে মেয়েদের এত মাতামাতি! যে কৃষ্ণর লীলায় প্রেমের মনে জোয়ার আসে তাহলে হঠাত্‍ প্রেমিক থেকে স্বামীর বেলায় কেন কৃষ্ণ সটান গেট আউট! আর শিবের সেখানে ‘ওয়ার্ম ওয়েলকাম’! প্রশ্ন জাগেই মনে। আর তাই কয়েকটা কথা। নারী নই। পুরুষ আমি। প্রেমিক মনেও কৃষ্ণে বিশ্বাসী নই। এ পুরুষ মনেও শিবের জন্য স্বর্গদ্যানের দরজা হাট করে খোলা। কারণগুলো এক এক করে বলছি।

১) শিব কিসের ঠাকুর? – যার মতো স্বামী চাই, সে কিসের দেবতা? মানে আমরা তো সবাই জানি যে, বরুণ দেবতা জলের দেবতা। কুবের অর্থের দেবতা। সরস্বতী বিদ্যার দেবতা। তাহলে শিব ঠাকুর কিসের দেবতা? এই প্রশ্নের উত্তর বেশিরভাগেরই জানা থাকে না। আসলে শিব ঠাকুর, জ্ঞাণের দেবতা। সরস্বতীকে পুজো করলে বিদ্যা-বুদ্ধি পাবেন। কিন্তু জ্ঞাণী হতে গেলে আপনাকে শিবের উপাসক হতে হবে। শিবের মতো স্বামীর প্রার্থনা করলেন মানে আপনি আসলে নিজের জন্য জ্ঞাণী স্বামী চাইছেন। এটা বুঝে অথবা না বুঝে।

২) শিবলিঙ্গে জল ঢাললেন, মানে জলটা আসলে ঢাললেন কোথায়? – সবাই তো পরম ভক্তিভরে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে এলেন। কিন্তু যদি প্রশ্ন করি, জলটা ঠিক ঢাললেন কোথায়? মানে শিবলিঙ্গ বলতে আপনি এক্ষেত্রে ঠিক কী বোঝেন? আপনি কি সত্যিই শিবঠাকুরের ‘লিঙ্গে’ জল ঢেলে এলেন? নাকি শিবের মাথায় (বাবার মাথায়) জল ঢেলে এলেন? এই প্রশ্ন করলে সাধারণত এই দুটো উত্তরই পাওয়া যায়। এক, লিঙ্গে জল ঢেলে এসেছেন অথবা দুই, মাথায় জল ঢেলে এসেছেন। আসলে এর কোনটিই নয়। ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ হল ‘বাস’ মানে, বাসস্থান। অর্থাত্‍ শিবঠাকুর যেখানে বাস করেন বা বিরাজ করেন, সেটাই আসলে ‘শিবলিঙ্গ’! এবার বুঝলেন, আপনি জলটা আসলে কোথায় ঢেলে এলেন!

৩) শিবলিঙ্গের নিচে গোল চাকতির মতো ওটা কী? – জল ঢালার পর যে গোল চাকতির উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়, ওটাকে কী বলে বা ওটা কী জানেন? ওটা পার্বতীর পিঠ। পুরাণ অনুযায়ী, জ্ঞাণের বিকাশ হয় শক্তির পিঠের উপর। আর শক্তির উত্‍স আসলে পার্বতী-দুর্গা বা নারী। নারী শক্তির উপর ভিত্তি করেই জ্ঞান বিকশিত হয়। সত্যি এটাই। এই পুরুষশাসিত সমাজ যদি এই ছোট্ট সারসত্যটা একটু বুঝতো, সমাজটার এই রূপ বদলে যেত। আসলে শক্তির উত্‍স নারী। আর জ্ঞাণের উত্‍স পুরুষ। না হলে রাক্ষস কিংবা অসুরদের বধ করার জন্য কেনই বা অযথা হাজার হাজার পুরুষ দেবতাকে দুর্গার আশ্রয় নিতে হয়? ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর কিংবা শিব স্বয়ং, উপায় বাতলে দিতে পারেন। কিন্তু শত্রু নিধনে দরকার হয় দুর্গার অথবা নারীর। পুরুষ এটা বুঝলে ৪০ ইঞ্চির বাইসেপস আর ৫২ ইঞ্চির বুকের ছাতির পিছনে না ছুটে মগজের বিকাশের জন্য জিমে না ঢুকে বইয়ে সময় দিতো। দেশে নারী নির্যাতন একটু কমতো।

৪) শিবের এত নেশা-ভাঙের কারণ কী!- সত্যিই আপনার পছন্দের স্বামী কেনই বা সারা গায়ে ছাই মেখে নেশায় বুঁদ হয়ে বসে থাকবে! সে কেন আজকের ডেটের স্মার্ট-ঝকঝকে পুরুষ হয়ে উঠবে না! আসলে জ্ঞাণীর যে বড় জ্বালা। সে, যে কথা বলবে, তা তো বেশিরভাগটাই হবে উলুবনে মুক্তো ছড়ানো। তাই জ্ঞাণী আর আমের এই ভেদ ওয়াঘা সীমান্তের থেকেও শক্ত সীমান্ত। এটা ওই অমুক সিমেন্টের মতোই পোক্ত। ভাঙার কোনও চান্স নেই! তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবেই জ্ঞাণী একা হয়ে পড়বে। একা মানুষের জীবনেও তো পার্বতী থাকে। তাহলে? কিন্তু পার্বতীদের যে দশের সেবা করতে হয়। তাই জ্ঞাণী শিব আরও একা হয়ে পড়েন। একা আরও একা। তাই সময় কাটানোর জন্য ছাইপাস নেশার আশ্রয়। একটু শান্তি আর নিজের ক্রোধ এবং কামকে সামান্য সংযমী করার চেষ্টা। একদম একা মানুষটার দেখভালের জন্যও প্রেমে পড়ে যায় নিরাকার দু-একজন নন্দী-ভৃঙ্গী। জ্ঞাণীর জন্য ওটুকু আশ্রয়ই যথেষ্ঠ। একটু নেশা। শান্তি। আর নিরাকার দুই মেনে চলা মানুষ।

৫) শিবের থেকে সেরা ক্রিয়েটিভ কে আর আছেন? – মানুষ, দেতা কিংবা শয়তান। সবারই সবথেকে সমস্যার রিপু ওই ক্রোধ। রাগই শেষ করে দেয় মানুষ, দেবতা থেকে শয়তানকে। রাগ মানই ধ্বংস। গোটা পৃথিবীর সব পড়ে ফেলুন। দুনিয়ার সব মানুষ, দেবতা অথবা শয়তানকে ব্যাখ্যা করে আসুন। আর একটা শিব পাবেন না। তিনিই যে পথ দেখিয়েছেন। তিনি রাগলে তাণ্ডব করেন। নাচেন! মানে কলা প্রদর্শন করেন! একজনের রাগের বহিঃপ্রকাশ এতটাই সুন্দর যে, তাঁকে ‘নটরাজ’ বলা হয়। কী বলবেন এই গুণকে? প্রেমে না পড়ে উপায় আছে!

এরপর আর সেই বেড়ে ওঠার প্রথম জীবনের কৃষ্ণের মতো প্রেমিককে আর মনে জায়গা দেওয়া যায়! মন জুড়ে শিব এতটাই থাকেন যে, আর আপনার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। কৃষ্ণ বড়জোড় আপনার আশ্রয় হতে পারে। কিন্তু আপনিই পারেন ওই ‘অগোছালো’ শিবের বড় ‘আশ্রয়’ হতে। নারী শুধুই শক্তির প্রতীক নয় যে। সে যে ভালোবাসতেও দরাজ। যে আপনাকে বেশি ভালোবাসে, তাঁকে আপনি তার থেকেও বেশি ভালোবাসবেন কীভাবে? সে তো ভালোবাসতেই পারে না। তাই আপনার তাঁর উপর মায়া বাড়বে। ভালোবাসা বাড়বে। আর বন্ধন হবে অটুট। কৃষ্ণ কোনওদিন আপনার বড় মোহ ছিল। শিব চিরকাল আপনার। শুধুই আপনার। কেনর ব্যাখ্যা আপনি কী করে দেবেন? সেটা যে শুধুই জানেন ‘জ্ঞাণী শিব’। ‘পূজনীয় শিব’।

Check Also

শনিদেবের কৃপা পেতে চান? শনিবারগুলিতে কী কী করবেন, এখনই জেনে নিন !

জ্যোতিষীদের মতে, শনিবার প্রতিকার করলে শনি দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.