Thursday , February 9 2023

শিবের পঞ্চমুখ থেকে উৎপন্ন ‘ওম’, এর প্রভাবে ধুয়ে যায় পাপ! জানুন এই মন্ত্র জপের লাভ !

Sawan Shiv Puran: শিবের প্রভাবশালী ও সরল মন্ত্র হল ওম নমঃ শিবায়। এর মধ্যে ওম প্রণব মন্ত্র ও নমঃ শিবায়কে পঞ্চাক্ষর মন্ত্র হয়। আমরা প্রণব-সহ পঞ্চাক্ষর মন্ত্র মিলিয়ে উচ্চারণ করি। শিব পুরাণে শিব নিজেই এই প্রণব মন্ত্র উৎপত্তির কাহিনি জানিয়েছেন। আবার ওম এবং নমঃ শিবায় মন্ত্র জপের নিয়ম ও এর উপকারিতা সম্পর্কেও জানিয়েছেন শিব..

Shravana 2022 অর্থাৎ শ্রাবণ মাসে শিব পুরাণ পাঠ অত্যন্ত শুভ এবং ফলদায়ী হিসেবে গণ্য। শ্রাবণ মাসে (Sawan 2022) শিব পুরাণ পাঠ ও শ্রবণ মাত্রেই ব্যক্তির সমস্ত কষ্ট দূর হয়ে যায়। এই শিব পুরাণে (Sawan Shiv Puran)-এ শিবের প্রণব ও পঞ্চাক্ষর মন্ত্রের উৎপত্তির উল্লেখ পাওয়া যায়, তার পাশাপাশি প্রণব অর্থাৎ ওম বা ওংকার এবং পঞ্চাক্ষর মন্ত্র অর্থৎ নমঃ শিবায়ের কতবার জপ করলে কী সুফল পাওয়া যায়, তা-ও উল্লিখিত রয়েছে। শিব লাভের একাধিক পথ বর্তমান এখানে…

প্রণব মন্ত্রের উৎপত্তি:
শ্রাবণ মাস (Shravana Month) উপলক্ষে শিবের প্রণব মন্ত্র অর্থাৎ ওম বা ওংকারের উৎপত্তি সম্পর্কে জেন নেওয়া যাক। শিব পুরাণ অনুযায়ী একদা শিব ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে নিজের প্রণব মন্ত্রের উৎপত্তির রহস্য জানাচ্ছিলেন। শিব বলেন যে, পঞ্চকৃত্য অর্থাৎ সৃষ্টি, পালন, সংহার, তিরোভাব ও অনুগ্রহ অর্থাৎ মোক্ষ এই পাঁচ কৃত্যের ভার বহন করার জন্য তাঁর পাঁচটি মুখ বর্তমান। এর মধ্যে চারটি মুখ চার দিকে এবং মধ্যবর্তী স্থানে পঞ্চম মুখ বর্তমান। এই পাঁচটির মধ্যে সৃষ্টি ও পালনের দায়িত্ব তিনি ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে দিয়েছেন। তাঁর বিভূতি স্বরূপ রুদ্র ও মহেশ্বর সংহার ও তিরোভাবের দায়িত্ব পালন করে কিন্তু মোক্ষ তিনি স্বয়ংই প্রদান করেন। এর পরই শিব জানান যে, অতীতে তিনি নিজের স্বরূপভূত মন্ত্রের উপদেশ দেন এবং এটি ওংকার নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এটি পরম মঙ্গলকারী মন্ত্র। এর স্মরণ করলে নিরন্তর শিবেরই স্মরণ করা হয়।

ওংকারের উৎপত্তি:
শিব পুরাণ (Sawan Shiv Puran) অনুযায়ী, ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে শিব স্বয়ং জানিয়েছিলেন যে, তাঁর উত্তরাবর্তী মুখ দিয়ে অকার, পশ্চিম মুখ দিয়ে উকার, দক্ষিণ মুখ দিয়ে মকার, পূর্ববর্তী মুখ থেকে বিন্দু ও মধ্যবর্ত মুখ থেকে নাদ প্রকট হয়। এ ভাবে এই পাঁচটি অবয়বে ওংকারের বিস্তৃত। এই পাঁচ অবয়ব একত্রিত হয়ে প্রণব ‘ওম’ নামক অক্ষর উৎপন্ন করে। জগতে উৎপন্ন সমস্ত স্ত্রী-পুরুষ এই প্রণব মন্ত্রের মধ্যে ব্যাপ্ত। শিব ও শক্তি উভয়ের বোধ করে এই মন্ত্র। এর থেকেই উৎপত্তি হয় পঞ্চাক্ষর মন্ত্র ওম নমঃ শিবায়ের। এটি শিবের সাকার রূপের বোধ করায়। এই পঞ্চাক্ষর মন্ত্র দিয়েই মাতৃকা বর্ণ প্রকট হয় যা পাঁচ ভেদ যুক্ত। এর থেকেই শিরোমন্ত্র-সহ ত্রিপদা গায়ত্রী প্রকট হন। এই গায়ত্রী থেকে সম্পূর্ণ বেদের উৎপত্তি এবং এই বেদ থেকে কোটি কোটি মন্ত্রের। এই মন্ত্রগুলির মাধ্যমে বিভিন্ন কাজের সিদ্ধি হয়। শিব জানান যে, এই পঞ্চাক্ষর প্রণব মন্ত্র সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ করে। শুধু তাই নয় ভোগ ও মোক্ষ উভয় প্রদান করে এই মন্ত্র।

প্রণব ও অন্যান্য মন্ত্র জপের উপকারিতা:
শিব পুরাণে শুধু প্রণব মন্ত্রের উৎপত্তি নয়, বরং এই মন্ত্র জপের উপকারিতা সম্পর্কেও জানানো রয়েছে। শিব স্বয়ং জানান যে…
১. আর্দ্রা নক্ষত্রে চতুর্দশীতে এই প্রণব মন্ত্র জপ করলে তা অক্ষয় ফল প্রদান করে।
২. সূর্য সংক্রান্তিতে মহা আর্দ্রা নক্ষত্রে একবার প্রণব মন্ত্র জপ কোটিগুণ জপের ফল দেয়। মৃগশিরা নক্ষত্রের শেষ পর্যায় ও পুনর্বসুর সূচনার পর্যায়টি পুজো, যজ্ঞ ও তর্পণের ক্ষেত্রে আর্দ্রার সমান।

৩. ভোরবেলা তাঁর লিঙ্গ দর্শন করা উচিত। আবার চতুর্দশী তিথি তাঁর পুজোর জন্য শ্রেষ্ঠ। পুজো করার জন্য লিঙ্গ ও মূর্তিই উভয়েই সমান, কিন্তু লিঙ্গের স্থান মূর্তির চেয়েও ওপরে। তাই মনুষ্য়কে শিবলিঙ্গের পুজো করা উচিত। ওম মন্ত্রোচ্চারণ করে লিঙ্গের ও পঞ্চাক্ষর মন্ত্রের মাধ্যমে মূর্তির পুজো করা উচিত।
৪. জপকালে প্রণব মন্ত্র অর্থাৎ ওম-এর উচ্চারণ মনকে শুদ্ধ করে। নাদ ও বিন্দু যুক্ত ওংকারকে কেউ কেউ আবার সমান প্রণব বলে থাকেন। প্রতিদিন ১০ হাজার বার পঞ্চাক্ষর মন্ত্র জপ বা সন্ধ্যায় এর সহস্ত্র মন্ত্র জপ করলে শিবপদ লাভ করা যায়।

৫. ব্রাহ্মণদের জন্য প্রণব যুক্ত পঞ্চাক্ষর মন্ত্র অত্যন্ত ফলদায়ী।
৬. পাঁচ কোটিবার পঞ্চাক্ষর মন্ত্র জপ করলে ব্যক্তি শিব সমান হয়ে উঠতে পারে।
৭. এক, দুই, তিন ও চার কোটি বার এই মন্ত্র জপ করলে ব্যক্তি ক্রমশ ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র ও মহেশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করতে পারে।

৮. এক হাজার দিন নিয়মিত একশো বার পঞ্চাক্ষর মন্ত্র জপ ও প্রতিদিন ব্রাহ্মণ ভোজন করালে অভীষ্ট কার্য সিদ্ধি হয়।
৯. ব্রাহ্মণদের প্রতিদিন ১ হাজার ৮ বার গায়ত্রী মন্ত্র জপ করা উচিত। কারণ গায়ত্রী মন্ত্র শিব পদ লাভ করাতে সাহায্য করে। বেদ মন্ত্র ও বৈদিক সুক্তির নিয়ম অনুযায়ী জপ করা উচিত।
শিব ও মোক্ষ লাভের উপায়

১. অন্য়ান্য মন্ত্রে যত অক্ষর বর্তমান, তত লক্ষবার যপ করা উচিত। যথাশক্তি জপ করলে, সেই ব্যক্তি মোক্ষ লাভ করতে পারে।
২. শিব জানান যে, নিজের পছন্দের কোনও মন্ত্র প্রতিদিন জপ করলে এবং প্রতিদিন ১০০ বার ওম-এর জপ করলে সকল মনস্কামনা পূরণ হয়।
৩. আবার যে ভক্ত শিবের জন্য বাগান তৈরি করে, যাঁরা মন্দির পরিষ্কার রাখার সেবা প্রদান করে, তাঁরা পুণ্যকর্ম লাভ করেন। যথাসময়ে তাঁদের মোক্ষ প্রদান করেন শিব।

৪. কাশীতে বাস করলেও যোগ ও মোক্ষ লাভ করা যায়। তাই শিব-ক্ষেত্রে বাস করা উচিত। সেখানে উপস্থিত পুকুর, কুয়োয় স্নান, দান ও জপ করলে ব্যক্তি শিব লাভ করতে পারে।
৫. শিব-ক্ষেত্রে নিজের মৃত আত্মীয়ের শেষকৃত্য, বাৎসরিক কার্য ও পিণ্ড দান করলে তৎক্ষণাৎ সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়। অবশেষে তাঁরা শিবপদ লাভ করে।
৬. আবার বর্ণ অনুযায়ী আচরণ ও সদাচার পালন করলেও শিব প্রসন্ন হন বলে জানিয়েছেন। নিষ্কাম ভাবে কোনও কাজ করলে শিব লাভের পথ প্রশস্ত হয়।

দৈনন্দিন কাজের নিয়ম:
শিব পুরাণে প্রতিদিন কী কী কাজ করা উচিত, তারও বর্ণনা পাওয়া যায়। দিনে প্রাতঃ, মধ্যাহ্ন ও সন্ধ্যা- এই তিনটি ভাগ হয়ে থাকে। প্রতিটি পর্যায়ে এক এক ধরনের কর্ম প্রতিপাদন করা উচিত। প্রতিদিন সকালে দৈনিক শাস্ত্র কর্ম, মধ্যাহ্ন সকাম কর্ম ও সন্ধ্যাকালে শান্তি কর্মের জন্য পুজো করা উচিত। এ ভাবেই রাতে চার প্রহর হয়ে থাকে। তার মধ্যে মধ্যবর্তী দুই প্রহর নিশীথকাল নামে পরিচিত। এই সময়কালে পুজো করা উচিত। কারণ এই পুজো অভীষ্ট ফল প্রদান করে। কলিযুগে কর্মের মাধ্যমেই ফল লাভ সম্ভব হবে। সময় অনুযায়ী ও নিয়ম মেনে শিবের পুজো করলে ব্যক্তির সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয়।

Check Also

মুসলিম মহিলার হাতে শক্তির দেবীর আরাধনা, কালীপুজো ঘিরে এগাঁয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে

এক মুসলিম মহিলার হাতে পূজিত হন মা কালী। তাঁর হাতেই এপুজোর শুরু। বছরের পর বছর ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.