Friday , September 17 2021

ব্রে’ন টি’উমার কেন হয় ও কাদের হওয়ার প্রব’ণতা বে’শি থাকে? জেনে রাখা উ’চিত সকলের!

ব্রে’ন টিউ’মার কেন – ব্রেন টি’উমার ক্যা’ন্সারের মত আরেকটি ভ’য়া’বহ রোগ। ম’স্তি’ষ্কে মাংসের অথবা কোষের অস্বা’ভাবিক বৃদ্ধি’ পাওয়াকে ব্রেন টি’উমা’র বলা হয়। সাধারণত দুই ধরণের ব্রে’ন টিউমার দেখা দেয়- একটি হলো ক্যা’ন্সার(ম্যালিগন্যান্ট) ও আরেকটি নন-ক্যা’ন্সার( বিনাইন বা কম ক্ষ’তিকর)। দুটি ক্ষেত্রে ম’স্তি’ষ্কের কোষ ক্ষ’তিগ্র’স্ত হয়। ব্রে’ন টিউমারের মূল কারণ এখনও অ’জানা। যেকোন বয়সী মানুষ এই রো’গে আক্রা’ন্ত হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ শারী’রিক সম’স্যার মাধ্যমে ব্রেন টিউমারের ল’ক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে। এই সম’স্যাগুলো এড়িয়ে চলা যাবে না।

ব্রেন টিউ’মার কী?

ডাঃ আবু সাঈদ: টিউ’মার হচ্ছে শরী’রের যে কোনো জায়’গায় বা অ’ঙ্গে কো’ষের অস্বা’ভাবিক বৃ’দ্ধি। এবং এই টিউমা’রটি যখন ব্রেনের ভেতরে হয় তখন সেটাকে আমরা বলি ব্রেন টিউ’মার

এর লক্ষ’ণগুলো কী কী?

ডাঃ আবু সাঈদ : ব্রেন টিউ’মারের ল’ক্ষণ একেক সময় একেক রকম হতে পারে। এর প্রধান বা স্বাভাবিক ল’ক্ষণ হচ্ছে মাথা’ব্য’থা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং দৃ’ষ্টি’শক্তি ক্রমশ কমে যাওয়ার এই তিনটিকে আমরা সব টিউ’মারের ক্ষেত্রে ধরতে পারি। এ ছাড়াও অনেক সময় রো’গীর অন্য লক্ষ’ণও দেখা দিতে পারে।

যেমন: রো’গীর খিঁ’চুনি হতে পারে অথবা শরী’রের যে কোনো এক’দিকের হাত বা পা দু’র্বল হয়ে যায় অথবা তার মান’সিক অব’র পরিবর্তন হতে পারে অর্থাৎ তার আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেবে।

অনেক ক্ষেত্রে হর’মোনের নিঃ’সরণের আধিক্য বা ঘা’টতি দেখা দিতে পারে। যা ব্রে’ন টিউ’মারের রো’গীর ক্ষে’ত্রে বিভি’ন্নভাবে প্র’কাশ পায়।

ব্রেন টিউ’মার কেন হয়?

ডাঃ আবু সাঈদ : ব্রেন টিউ’মারের কারণ এখন পর্য’ন্ত অজা’না। খা’রাপ টিউ’মার শরী’রের অন্য জায়গা থেকে ক্যা’ন্সারের রূপ নিয়ে ব্রে’নের মধ্যে চলে যায়। বং’শগত কারণেও ব্রে’ন টিউ’মার হতে পারে।

কাদের ক্ষে’ত্রে হওয়ার প্রবণতা বেশি? বাংলাদেশে এর প্রকোপ কেমন?

ডাঃ আবু সাঈদ : কিছু টিউ’মার আছে ছোটদের বেশি হয়, আবার কিছু টিউমার আছে যা ৬০ বছরের ওপরে গেলে বেশি হয়। মহিলাদের ক্ষে’ত্রে সব ধরনের টিউমারের প্রতি’ক্রিয়া এক রকম নয়। একেক ক্ষেত্রে টিউ’মারটি একেক রকম’ভাবে প্রকাশ পায়।

যার ফলে আমরা ওভাবে বলতে পারব না কাদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। এক কথায় বলতে পারি, যে কোনো বয়সের, যে কোনো পু’রুষ বা মহি’লার টিউমার হতে পারে। একেক ধরনের টিউমার শিশু বা মহিলা বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে একেক রকমের হতে পারে।

এটা সত্যি দুঃখ’জনক যে, বাংলাদেশে ক্রম’শ আমরা এর প্রকোপ বৃ’দ্ধি পেতে দেখছি। তবে সঠিক পরিসং’খ্যান এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে নেই।

ব্রেন টিউমার কি সারানো সম্ভব?

ডাঃ আবু সাঈদ : ব্রেন টি’উমার মানেই ক্যা’ন্সার এটা ভুল ধারণা। কিছু কিছু টিউমার আছে যা খা’রাপ টিউ’মার বা ক্যা’ন্সার টিউ’মার, কিন্তু অনেক টিউমারই আছে যেগু’লো সম্পূর্ণভাবে আরো’গ্য’যোগ্য। কিছু কিছু টি’উমার আছে চিকি’ৎসা করালে স’ম্পুর্ণ ভালো হয়ে যায়। আর কিছু আছে যা থেকে আপৎ হতে পারে।

বিনাইন ব্রেন টিউ’মার আর ক্যা’ন্সার ব্রেন টিউমারের মধ্যে পার্থক্য কী?

ডাঃ আবু সাঈদ : বিনাইন টিউ’মার মানে ভালো আর ক্যান্সার ব্রে’ন টিউমার হচ্ছে খারাপ টিউ’মার। প্রকৃতিগতভাবে পার্থ’ক্য হচ্ছে বিনাইন ব্রেন টিউ’মার খুব আ’স্তে আ’স্তে হয়, যার ফলে এই রো’গের ল’ক্ষণ বা প্রকাশ অতটা তাড়া’তাড়ি হয় না। আর ক্যা’ন্সার ব্রেন টিউ’মার খুব দ্রুত বৃ’দ্ধি পায়।

ব্রেন টি’উমার কীভাবে চিহ্নিত করা হয়? এর জন্য কী ধরনের প’রীক্ষা করা হয়?

ডাঃ আবু সাঈদ : যে কোনো রোগ নির্ণয়ের প্রথম পদ্ধতিই হচ্ছে তাকে ক্লিনিকে আনা, পর্যবে’ক্ষণে রাখা। রোগী’র বিশেষ শারীরিক পরী’ক্ষা করা যেটাকে আমরা বলি নিউরো’লজিক্যাল বি’শ্লেষণ।

রোগীর বর্ণনা থেকে এবং রো’গের ল’ক্ষণ দেখে ধারণা করা যায়। মাথার নরমাল প্লে’ন এ’ক্স-রে পরী’ক্ষার মাধ্যমে আমরা কিছু ধারণা করতে পারি কিন্তু এটি সম্পূ’র্ণভাবে রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি নয়। পদ্ধতি হচ্ছে সিটি-স্ক্যা’ন এবং আরও ভালো হচ্ছে এম.আর.আই।

ব্রেন টিউ’মারে আক্রা’ন্ত রো’গীর পরিণতি কী?

ডাঃ আবু সাঈদ : সাধারণভাবে আমরা টিউমারকে ২ ভাগে ভাগ করি। ১. ভালো টিউমার, ২. খারা’প টিউ’মার। ভালো টিউমার যদি সঠিকভাবে অপারে’শন করে সম্পূর্ণ বের করা যায় তাহলে রো’গী স¤’পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে।

আর যদি ক্যা’ন্সার টি’উমার হয় তবে তারও রকম’বেদ আছে। কিছু কিছু খারাপ টি’উমার আছে যা হলে রো’গী কম’পক্ষে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কর্ম’ক্ষম থাকতে পারে। আর কিছু কিছু টি’উমার আছে যা এতই খা’রাপ যে, রো’গী ৬ মাস থেকে ১ বছরের বেশি বেঁ’চে থাকে না।

ব্রেন টিউ’মার চিকিৎ’সায় কী কী পদ্ধ’তি প্রয়োগ করা হয়?

যে কোনো টিউ’মারের চিকি’ৎসা হচ্ছে সা’র্জারি বা অপা’রেশন। অপা’রেশন করে রো’গীর টিউ’মারকে বের করে, বায়ো’পসি করে প্রকৃতি নির্ণয় করে পরবর্তী চিকি’ৎসা করা হয়।

কী কী ধর’নের মুখে খাওয়ার ওষু’ধ আছে?

ডাঃ আবু সাঈদ : ব্রেন টিউ’মারে মুখে খাওয়ার ওষু’ধ দিয়ে চি’কিৎসা কোনো’ভাবেই সম্ভব নয় তবে রো’গের লক্ষণ’গুলোর চিকি’ৎসা ওষু’ধ দ্বারা করা সম্ভব। টিউ’মারের জন্য যেসব ল’ক্ষণ যেমন মাথা’ব্য’থা ও বমি হওয়া এ’ইসব ল’ক্ষণের চিকি’ৎসায় আমরা ও’ষুধ দিয়ে করতে পারব।

তাও সাম’য়িকভাবে। টিউমার যখন আ’স্তে আ’স্তে বড় হবে টিউমা’রের লক্ষ’ণগুলো আরও বেশি প্রকট হয়ে ধরা পড়বে; যার ফলে ওষুধ দিয়ে শুধু সাময়িকভাবে তার লক্ষ’ণগুলোকে কিছুদিন কমি’য়ে রাখা যাবে। কিন্তু ওষু’ধের চিকি’ৎসা টি’উমা’রের জন্য নয়।

অপারে’শনের মাধ্যমে কীভাবে ব্রে’ন টিউ’মারের চিকি’ৎসা করা হয়?

ডাঃ আবু সাঈদ : অপারে’শনের মাধ্যমে ব্রে’নটা খুলে ব্রে’নের যে লো’কেশনে টিউ’মারটা আছে স’ম্ভব হলে সম্পূর্ণ বা আংশি’কভাবে টিউমা’টাকে স’রিয়ে আনা হয়। ক্যা’ন্সার টিউ’মারের ক্ষেত্রে আমরা যত’টুকু সম্ভব বের করে দিই। যতখানি বের করা যায় রো’গীর উন্নতি হওয়ার সম্ভা’বনা তত বেশি।

এমন কিছু প’দ্ধতি আছে, যার মাধ্যমে ব্রেন টিউ’মার বের করার জন্য মগজ বা ব্রেন খুলতে হয় না। রে’ডিও সার্জা’রির মাধ্যমে ছোট ছোট টি’উ’মার যেমন – ২ দশমিক ৫ সেন্টি’মিটার বা ১ ইঞ্চির ছোট যেগুলো হয় সেগুলো ছোট বা নষ্ট করে দেয়া হয়।

ব্রেন টি’উ’মারের চিকিৎসায় রঞ্জ’নর’শ্মির ভূমিকা কী?

ডাঃ আবু সাঈদ : র’ঞ্জন-রশ্মি টিউমারটিকে আপাত ছোট করে দেয় বা টিউ’মারের কর্ম’ক্ষমতা ন’ষ্ট করে দেয়। আর রঞ্জনরশ্মি বলতে আমরা বুঝি অপা’রেশন করার পর রেডি’ওথেরা’পি দেয়াকে। যা আমরা দিই অপা’রেশন করার পর যদি দেখা যায় যে টি’উমা’রি ক্যান্সার টি’উমা’র বা খা’রাপ টি’উমা’র।

সে ক্ষেত্রে রো’গীকে আগে থেকেই বলে দেয়া হয় সা’র্জারি করলে সম্পূর্ণভাবে এটি ভালো হবে না এবং অপা’রেশন করার পরেও রঞ্জ’নর’শ্মি বা রেডিও’থেরাপি মাধ্যমে চিকি’ৎসা চালিয়ে যেতে হবে। টি’উ’মারটি বের করে দেয়ার পর ওই এলাকায় রেডিওথেরাপি দেয়া হয় যেন টিউমারটির ক্ষ’মতা কমে যায়।

আমাদের দেশে বর্তমানে ব্রেন টিউ’মারের চিকি’ৎসা কেমন হচ্ছে?

ডাঃ আবু সাঈদ : বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই ব্রেন টিউ’মারের চিকি’ৎসা হচ্ছে এবং অধিকাংশ টিউ’মারের চিকি’ৎসা বাংলাদেশে করা সম্ভব। বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশে নিউরো সা’র্জারি বা ব্রেন টিউ’মার সার্জা’রি অনেক দূ’র এগিয়ে গেছে।

যদিও কিছু কিছু আধুনিক ব্য’বস্থা এখানো আমাদের দেশে আসেনি। যেমন- রেডিওসা’র্জারি আমাদের নেই, গামা-নাইফ সার্জারি নেই। বাকি যেগুলো আছে সেগুলোতে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি।

উন্নত বি’শ্বে বর্তমানে ব্রে’ন টিউ’মার চিকিৎসায় কী ধরনের পদ্ধ’তি ব্যবহার হচ্ছে? বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা কতটুকু?

ডাঃ আবু সাঈদ : উন্নত বিশ্ব বলতে আমাদের পাশের দেশও প্রযু’ক্তিগত দিক থেকে আমাদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছে বলতে পারেন। ভারতে যেমন- রেডিও’সা’র্জারি, গামা-নাইফ সা’র্জারি আছে যা আমাদের দেশে এখানা শুরু হয়নি। হয়ত বেশি’দিন লাগবে না শুরু করতে।

এই দুটি দিক ছাড়া বাকি সব সা’র্জারি আমাদের এখন দেশেই সম্ভব। এই সব সার্জারি আশ’পাশের দেশের তুলনায় মনে হয় ভালোই হয়। হয়ত আমরা এখন যে অপারেশন করি সেটা ৫ বছর আগে সম্ভব ছিল না।

এগুলো এখন হচ্ছে এবং আস্তে আস্তে প্রযুক্তি’গুলো আমাদের দেশে আসছে । ‘খরচ খুব বেশি’ রো’গীদের এই ধা’রণাটা পরিষ্কার নয়, যখন মনে করবে যে এই সা’র্জারি বা প্র’যুক্তি ব্যবহার করে তারা ভালো হচ্ছে তখন রো’গী স্বাভা’বিকভাবে চলে আসবে।

Check Also

পু’রুষত্ব ন’ষ্ট হতে পারে ৮টি অ’ভ্যাসে, ২ নাম্বারটা খাবেন না

সুস্থ থাকার জন্য চাই স্বা’স্থ্যকর জীবনপ’দ্ধতি। লি’’ঙ্গ সুস্থ রাখতেও তাই ত্যাগ করতে হবে বদভ্যাস। সঠিক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *