Thursday , February 9 2023

বৃহস্পতিবার এই নিয়ম মেনে দেবী লক্ষ্মীকে সন্তুষ্ট রাখুন, জীবনে কখনও অর্থ সংকট হবে না !

প্রতি শুক্রবার নয়টি পদ্মের কাণ্ড দিয়ে একটি ঘি ভর্তি মাটির প্রদীপ জ্বালান। এটি অর্থের খুব শক্তিশালী পজিটিভি তরঙ্গ তৈরি হয়।
সম্পদ ও জ্ঞানের দেবী হলেন দেবী লক্ষ্মী (Goddess Lakshmi)। খ্যাতি, জ্ঞান, সাহস, শক্তি, বিজয়, ভাল সন্তান, বীরত্ব, শস্য, সুখ, বুদ্ধি, সৌন্দর্য, উচ্চ লক্ষ্য, উচ্চ চিন্তা, নৈতিকতা, সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘ জীবন, এই ১৬টি বিভিন্ন ধরণের সমৃদ্ধি দেবী লক্ষ্মী দ্বারা অর্পণ করা হয়েছে। প্রতিটি হিন্দু পরিবারেই দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।। লক্ষ্মীর বিশেষ মাস হল আনন্দের মাস অক্টোবর। বৃহস্পতি (Thursday) ও শুক্রবারে (Friday) দেবীর পূজা করা সৌভাগ্যের বলে মনে করা হয়। নবরাত্রির চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ দিনগুলি দেবীর আরাধনা করা হয়। ব্যক্তির জীবনে ধনশক্তির শক্তি আকর্ষণ করার জন্য সবচেয়ে পূণ্যবান। হিন্দু শাস্ত্র (Hinduism) অনুসারে যদি ঠিক ঠিক নিয়ম মেনে ও মন্ত্র পাঠ করার মধ্যে দিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়, তাহলে সুখ এবং সমৃদ্ধির দেবী এতটাই প্রসন্ন হন যে মনের ছোট ইচ্ছাও পূরণ হতে সময় লাগে না।

দেবী লক্ষ্মীকে সন্তুষ্ট করার কয়েকটি টিপস

শ্রী সূক্ত, পাঠ করুন:
প্রার্থনা এলাকায় লক্ষ্মীর মূর্তি বা ছবি রাখুন। ভক্তিভরে ৩০ দিন শ্রী সূক্ত পাঠ করলে জীবন বদলে যেতে পারে। শ্রী সূক্ত পাঠকরলে দেবী শুধু প্রসন্ন হোন তাই নয়, দুহাত ভরে আশীর্বাদও করেন।

লক্ষ্মী গায়ত্রী জপ:
দিনে ১০৮ বার, লক্ষ্মী গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করুন। তা টাকা-পয়সা সমক্রান্ত যে কোনও সমস্যা মিটে যায়। সঞ্চয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।

‘ওম মহালক্ষ্মী বিদমহে বিষ্ণুপ্রিয়ায়ে ধীমহি তন্নো লক্ষ্মী প্রচোদয়াত’

পদ্মবীজের মালা:
মন্ত্রটি পাঠ করার জন্য পদ্মের বীজ দিয়ে তৈরি জপমালা বা মালা ব্যবহার করুন। এটি কমল গট্ট মালা নামে পরিচিত। এই পুঁতিটি প্রতিদিন ভক্তিভরে মন্ত্র পাঠ করলে দারিদ্র্য দূর হয়, আর্থিক সাফল্য বৃদ্ধি হয। এর পিছনে রয়েছে দেবী লক্ষ্মীর কৃপা।

ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালান:
প্রতিদিন নারকেল, পদ্মফুল এবং ক্ষীরের নৈবেদ্য দিয়ে দুটি ঘি প্রদীপ জ্বালান।

পদ্মের মত সুগন্ধ যুক্ত মোমবাতি:
প্রতি শুক্রবার নয়টি পদ্মের কাণ্ড দিয়ে একটি ঘি ভর্তি মাটির প্রদীপ জ্বালান। এটি অর্থের খুব শক্তিশালী পজিটিভি তরঙ্গ তৈরি হয়। শরীর ও মনের সব নেগেটিভিটি দূর হয়ে আধ্যাত্মিক শক্তি সঞ্চালন করে।

সিল্কের বাঁশি:
গৃহে সমৃদ্ধি ও শান্তির জন্য বাঁশের তৈরি একটি বাঁশিকে সিল্কের কাপড়ে মুড়ে ঠাকুরের সিংহাসনে রাখতে হবে। ভগবান কৃষ্ণ বাঁশি পছন্দ করেন। বিষ্ণুর আরেক রূপ হল কৃষ্ণ।তাই কৃষ্ণ খুশি হলেই লক্ষ্মীও খুশি হোন। প্রার্থনার বেদিতে এই বাঁশি স্থাপন করলে তা সৌভাগ্যজনক হিসেবে মনে করা হয়

গরুর খাদ্য:
মহালক্ষ্মীর কৃপা লাভের জন্য শুক্রবারে একটি গরুকে মিষ্টি সাদা ভাত খাওয়ান। তাতে পুরনো পাপ দূর হয়, এবং সমস্ত বাধা দূর করে দেয়। গরুকে ভালোভাবে খাওয়ালে ও সেবা-যত্ন করলে প্রচুর ধনসম্পদ লাভ করা যায়।

লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ:
বাড়িতে লক্ষ্মীকে স্বাগত জানাতে, রান্না না করা চালের আটা ব্যবহার করে পূজার ঘরে তার পায়ের ছাপ তৈরি করুন। লঘ্মীপুজোর সম বাঙালির ঘরে এই ধরণের আলপনা দেওয়ার রেওয়াজ আছে। ভাগ্যবান লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ বিষ্ণুকে আকৃষ্ট করবে। লক্ষ্মী এবং বিষ্ণু অবিচ্ছেদ্যভাবে সংযুক্ত। সমস্ত পাপ এবং অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে ও পুণ্য, সম্পদ, ভাল কাজ এবং সঠিক জীবনযাপনের জন্য এই নিয়মগুলি মেনে চলুন। অর্থ কষ্ট দূর তো হবেই, সঙ্গে শান্তি ও সুখ বজায় থাকবে গৃহে।

Check Also

মুসলিম মহিলার হাতে শক্তির দেবীর আরাধনা, কালীপুজো ঘিরে এগাঁয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে

এক মুসলিম মহিলার হাতে পূজিত হন মা কালী। তাঁর হাতেই এপুজোর শুরু। বছরের পর বছর ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.