Monday , December 5 2022

বিজয় একাদশীতেই হবে মোক্ষলাভ ! শ্রী বিষ্ণুর আশীর্বাদ পেতে করুন এই ছোট্ট কাজ

হিন্দু ধর্মে যত ব্রত কথা রয়েছে তার মধ্যে একাদশী ব্রতকথাকে অন্যতম ব্রতকথা বলে মনে করা হয়। শুধু তাই নয়, একাদশী ব্রত পালন করেই নাকি লাভ করা যায় ভগবান বিষ্ণুর, শ্রীকৃষ্ণ এবং মাতার লক্ষ্মীর আশীর্বাদ। হিন্দু ধর্মে তাই এই বিশেষ একাদশী তিথির গুরুত্ব রয়েছে। যত উপবাস রয়েছে তার মধ্যে একাদশীর উপবাস অত্যন্ত কঠিন। প্রতিমাসে দুটি করে একাদশী পরে। ফেব্রুয়ারি মাসের ২৭ তারিখে পড়েছে বিজয়া একাদশী। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই তিথিতে যদি নিয়ম এবং ভক্তি সহকারে শ্রীবিষ্ণুর আরাধনা করেন তাহলে সুফল নিশ্চিত।

এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করা হয়। বিশ্বাস করা হয় , এই দিন ভগবান শ্রী বিষ্ণুর আরাধনা করলে এবং উপবাস করলে একজন ব্যক্তি প্রতিটি কাজে জয়লাভ করেন। সেই সঙ্গে শত্রুদের ওপর বিজয় অর্জিত হয় এবং মৃত্যুর পর মোক্ষ লাভ হয়। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছরের ২৭শে ফেব্রুয়ারি বিজয়া একাদশীর উপবাস পালিত হবে। ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই একাদশী তিথি ২৬ শে ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১০.৩৯ মিনিট থেকে শুরু হয়েছে, যা পরের দিন ২৭ শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮.১২ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। কিন্তু ভক্তগণ একাদশী পালন করবেন ২৭ তারিখেই। এছাড়াও বিজয়া একাদশী তিথিতে সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ এবং ত্রিপুষ্কর যোগও গঠিত হচ্ছে। বিজয়া একাদশীর দিন পুজোর শুভ সময় হবে দুপুর ১২.১১মিনিট থেকে ১২.৫৭ মিনিট পর্যন্ত। পাশাপাশি এই দিন রাহুকাল থাকবে সন্ধ্যা ৪.৫৩ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬.১৯ মিনিট পর্যন্ত।

যদিও প্রতিটি একাদশী গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বিজয়া একাদশীর নাম অনুসারে বিজয় বয়ে আনে বলে মনে করা হয়। এই একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করা হয়। এই একাদশীর উপবাস পালন করলে আপনি ভয়ানক বিপদ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আপনি সবচেয়ে শক্তিশালী শত্রুদের পরাস্ত করতে পারেন।

বিজয়া একাদশীর উপবাস পদ্ধতি
•এই দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে মাতা লক্ষ্মীর সঙ্গে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করুন।

•পুজোয় ফল, ফুল, গঙ্গাজল, ধূপ, প্রদীপ ইত্যাদি ব্যবহার করুন। এই উপবাসে সারাদিন উপোস থাকুন, যদি তা করা সম্ভব না হয় তবে যে কোনো এক সময় ফল খেতে পারেন। এই উপবাসে ফলের রসও খাওয়া যেতে পারে।

•একাদশী তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করার পর পরদিন সকালে অর্থাৎ দ্বাদশী তিথিতে আবার বিষ্ণুর পুজো করুন। তারপরে, ব্রাহ্মণদের খাওয়ানোর পরে, দান করুন এবং আপনার উপবাস ভঙ্গ করুন।

বিজয়া একাদশী পুজো পদ্ধতি:
পুজোর জন্য একটি বেদি তৈরি করুন এবং তাতে সাত প্রকার ধান রাখুন। এতে জল ভর্তি একটি কলস রাখুন এবং আম বা অশোক পাতা দিয়ে সাজান। বেদী প্রস্তুত করার পরে, ভগবান বিষ্ণুর একটি মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন। তারপর শ্রী হরিকে হলুদ ফুল, মৌসুমি ফল, তুলসী ইত্যাদি নিবেদন করুন এবং ধূপ-দীপ দিয়ে তাঁর আরতি করুন। সম্ভব হলে এই দিনে ঘিয়ের অবারিত প্রদীপ জ্বালান। একাদশী উপবাসের ব্রত কথা পাঠ করতে একদমই ভুলবেন না।

ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ পেতে এই দিন যা করবেন

•একাদশী তিথিতে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠুন (আদর্শভাবে ব্রহ্ম মুহুর্তের সময় – সূর্যোদয়ের প্রায় ২ ঘন্টা আগে)।

•তাড়াতাড়ি স্নান করুন এবং পরিষ্কার কাপড় পরিধান করুন।

• ধ্যানের পর সংকল্পের জন্য প্রস্তুত হন ।

• যতক্ষণ আপনি উপবাস পালন করবেন ততক্ষণ ব্রহ্মচর্য বজায় রাখুন।

• পেঁয়াজ, রসুন, মাংস, চাল, গম, মসুর, ডাল খাবেন না।

•কঠোরভাবে অ্যালকোহল এবং তামাক এড়িয়ে চলুন।

•আপনি ফল, দুধ, সাবুদানার খিচুড়ি ইত্যাদি খেতে পারেন।

•অভাবীদের খাদ্য কিংবা প্রয়োজনীয় জিনিস দান করুন।

•সারাদিন ‘ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ করুন।

• একাদশী তিথিতে পুজো করার পর বিষ্ণু সহস্রনাম, ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গ করা স্তোত্র এবং বিজয়া একাদশী ব্রতকথা পড়ুন।

Check Also

শিবলিঙ্গ জড়িয়ে সাপ, মহাদেবের সঙ্গেই পূজিত হচ্ছেন নাগদেবতা, তুমুল ভাইরাল ভিডিও

মহাদেবের মন্দিরে মহাদেবের সঙ্গে পূজিত হচ্ছে এক বিষধর সাপ। মহাদেবের লিঙ্গ কে একেবারে জড়িয়ে ধরে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.