Thursday , February 9 2023

নিজের গলায় খড়্গ দিয়ে কোপ দিতে চেয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ ! তারপরের ঘটনায় হাঁ হয়ে যাবেন

শ্রীরামকৃষ্ণের বাণী কিংবা তাঁর মুখের প্রত্যেকটি কথা আজও ভারতবাসীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়ে গিয়েছে। শ্রীরামকৃষ্ণ শুধুমাত্র মহাপুরুষ নন , তিনি ভারতবাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন ঈশ্বর রূপে। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি “আমার ধর্ম ঠিক আর অপরের ধর্ম ভুল – এ মত ভালো নয়। ঈশ্বর এক বই দুই নাই”। এই মহান মানুষ ছিলেন একাধারে যোগসাধক অন্যদিকে দার্শনিক এবং ধর্মগুরু। যাঁর আদর্শে দীক্ষিত স্বামী বিবেকানন্দ ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষের কাছে আইকন হয়ে রয়েছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই মহাপুরুষদের মাথায় করে রাখবেন।

২০২২ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি দিনটি খুবই বিশেষ কারণ, এই দিন হল শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৮৭তম জন্ম দিবস। জন্মেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দারিদ্র্য বৈষ্ণব ব্রাহ্মণ পরিবারে। দেবী কালীকে মা এবং বিশ্বজননী রূপে দেখার জন্য এক সময় আকুল হয়ে পড়েন। একদিন তিনি এই কারণে এতটাই অস্থির হয়ে পড়েছিলেন, নিজের মনে মনে পণ করেন যদি মা কালী তাঁকে দেখা না দেন তাহলে নিজের জীবন বিসর্জন দেবেন। সেইমতো দেয়াল থেকে খড়গ নিয়ে দিতে চেয়েছিলেন নিজের গলায় কোপ । কিন্তু তখনই নাকি হঠাৎ সে ঘরে দেখা দেয় উজ্জ্বল আলোকরশ্মি। তার মধ্যেই শ্রীরামকৃষ্ণ দর্শন করেছিলেন দেবী কালীকে। তার বর্ণনাও শ্রীরামকৃষ্ণ দিয়ে গিয়েছেন।

শুধু তাই নয় , পুজো করতে করতে যদি দেবী দর্শন না পেতেন, তাহলে চিৎকার করে কেঁদে উঠেন তিনি। শ্রীরামকৃষ্ণের এরূপ আচরণ দেখে বহু মানুষ তাঁকে পাগল ভাবতেন , আবার অনেকে ভাবতেন তিনি ঈশ্বরের প্রেমে অত্যন্ত ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন।

শেষ বয়সে মারাত্মক ক্যান্সার রোগ তাঁকে ঘিরে ধরলেও মুখে লেগেছিল স্নিগ্ধ হাসি। শেষ দিনে বলেছিলেন, তাঁর হাঁড়ি হাঁড়ি খিচুড়ি খেতে ইচ্ছা করছে অথচ মহামায়া কিছুতেই সে খিচুড়ি খেতে দিচ্ছেন না। যদিও সেই খিচুড়ি রান্না নিয়ে কম বিপত্তি বাঁধেনি। কারণ সেদিন রান্না করা খিচুড়ির নিচের অংশ ধরে গিয়েছিল।

খেতে খুব ভালোবাসতেন ঠাকুর। কাশীপুরে যখন রাঁধুনি আসত না তখন ভক্ত তারক রান্না করতেন। খাবারের গন্ধ পেলেই তিনি তাঁকে বলতেন চচ্চড়ি নিয়ে আসার জন্য। জীবনের শেষ কয়েকটা দিনে হয়ত তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আর বেশিদিন নেই , তাই সহধর্মিনীকে বলে গিয়েছিলেন কারোর কাছে পয়সার জন্য যেন হাত না পাতেন । কারণ ভাত-কাপড়ের কোনদিনও অভাব হবে না । কামারপুকুরে থাকতে বলেন এবং সেখানেই শাকভাত খেয়ে আর হরিনাম করে দিন কাটাতে বলেছিলেন। আজও শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের প্রত্যেকটি বাণী থেকে শুরু করে তাঁর মুখের প্রত্যেকটি কথা কিংবা শব্দ যেন অমর হয়ে রয়েছে।

Check Also

মুসলিম মহিলার হাতে শক্তির দেবীর আরাধনা, কালীপুজো ঘিরে এগাঁয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে

এক মুসলিম মহিলার হাতে পূজিত হন মা কালী। তাঁর হাতেই এপুজোর শুরু। বছরের পর বছর ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.