Sunday , September 19 2021

তারকেশ্বর মন্দিরের কিছু অজানা তথ্য! যা আপনার গায়ের লোম খাড়া করে দেবার জন্য যথেষ্ট

আমাদের বাংলার শৈব তীর্থগুলির মধ্যে অন্যতম হলো তারকেশ্বর! প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত সেখানে যান! জাগ্রত বাবা মহাদেব সেখানে লিঙ্গ রূপে বিরাজ করছেন, বাবার মন্দিরের পাশের পুকুরে সকলে স্নান করে পবিত্র মনে ভক্তিসহকারে কেউ দন্ডি কেটে বা কেউ এমনি লাইনে দাড়িয়ে পূজো দেন, বাবার মাথায় জল ঢালেন, শ্রাবণ মাসে বাবার বার অথ্যাৎ সোমবারে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় বাবার মন্দিরে।

আসুন তাহলে জেনে নেই বাবার তারকেশ্বর মন্দিরের কিছু অজানা তথ্য! যা আমরা অনেকেই জানিনা

1. হুগলি জেলার এই মন্দিরে প্রচুর ভক্ত প্রতিদিন সমবেত হন, কথিত আছে এই মন্দির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিষ্ণুদাস নামে এক শিব ভক্ত! এই বিষ্ণুদাসের আদি নিবাস ছিলো অযোধ্যায়।তিনি কোনো এক কারনে হুগলিতে চলে আসেন।এই মানুষটি ছিলেন পরম শিবভক্ত।

2. কোনো এক অজ্ঞাত কারনে সেখানকার স্থানীয় মানুষেরা তাকে অবিশ্বাস করতেন।ও নানা ভাবে নির্যাতনও করতেন। এদিকে তারই নিজের ভাই চট্টদাস একদিন পাশের এক গ্রামের জঙ্গলে দেখতে পান একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গরুরা গিয়ে দুধ দিয়ে আসে।

3. ওখানে আছে একটি পাথর, সেখানে গরুরা দুধ দেয়।এই সময়ে বিষ্ণুদাস স্বপ্নাদেশ পান যে ঐ শিলাখন্ডটি তারকেশ্বর মহাদেব।তারপর সেখানেই বিষ্ণুদাস একটি মন্দির নির্মান করেন। কথিত আছে তিনি নিজেই প্রথম তারকেশ্বর মহাদেবের পূজার ব্যাবস্থা করেন।

4. এরপর প্রধান সন্ন্যাসী মায়াগিরি ধুম্রপান প্রধান পূজারীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।পরে অবশ্য মন্দিরের পূনঃনির্মান হয়। বর্তমান মন্দিরটি 1729 সালে মল্লরাজাদের তৈরী।এটি বাংলার আটচালা শৈব মন্দির।এর উত্তরে অবস্থান করেছে দুধপুকুর।লোকবিশ্বাস যে এই পুকুরে স্নান করলে মনের সমস্ত ইচ্ছে পূর্ন হয়।

5. এই দুধপুকুরের সৃষ্টি নিয়েও জনস্রুতি আছে, হিরতসাগরের স্বামীর প্রতি প্রতাপত্য প্রকাশের অঙ্গ হিসেবে তারকেশ্বরে বাবা মহাদেবকে যে দুধ দিয়ে অভিশেক করানো হতো, সেই দুধ দিয়ে বাবাকে স্নান করাতে করাতে যে দুধ জমা হতো তা থেকেই এই দুধপুকুরের সৃষ্টি।

6. আজকের এই মন্দির ঘিরেও ছড়িয়ে আছে নানান কিংবদন্তি।শোনা যায় একসময় এই মন্দির থেকে লিঙ্গ সরানোর চেষ্টা করেছিলেন রাজা ভারমল্লদেব। কারণ রামনগর রাজবাড়ি থেকে মন্দিরের দূরত্ব বেশ বেশি ।রানীর পূজোর কষ্ট লাঘবের জন্যই তিনি নাকি বিগ্রহ সরাতে চেয়েছিলেন।কিন্তু তা আর হয়নি স্বপ্নাদেশের কারনে। কারন শিবক্ষেত্র থেকে নিজেই সরতে চাননি বাবা মহাদেব।

7. এখানে তারকেশ্বর শিব যে লিঙ্গ রূপে পূজা পান তা প্রচলিত লিঙ্গ নয়, তার থেকে অনেকটাই আলাদা।মনে করা হয় বাবা নিজেই এরখম রূপ নিয়ে তারকেশ্বরে আবির্ভূত হয়েছেন।

8.মহা শিবরাত্রি ও চৈত্র সংক্রান্তিতে এই মন্দিরে বিশেষ উৎসব হয়।প্রতি সোমবার হয় বিশেষ পূজো।এছাড়া শ্রাবন মাসের প্রতিদিন হয় এক বিশেষ পূজো।এখানে এসেই মেশে সব মত, সব পথ।

বাবা ভোলানাথের ভক্ত হলে অবশ্যই বাবাকে ভক্তিভরে প্রনাম করুন, ও বন্ধুদের মধ্যে শেয়ার করুন, তারাও জানতে পারবে বাবা মহাদেবের তারকেশ্বর মন্দিরের এই অজানা

Check Also

আপনার রাশি অনুযায়ী এই টোটকা গুলি পালন করুন, মা লক্ষ্মীর কৃপায় আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা ফুলেফেঁপে উঠবে।

আপনার রাশি অনুযায়ী এই প্রতিকার করুন, আপনার আলমারি সর্বদা অর্থ পূর্ণ থাকবে প্রত্যেকে ধন-সম্পদ ও ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *