Sunday , July 5 2020

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী, মনের জোরে লড়াই করে আজ নেট দুনিয়া কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে এই বিস্ময় বালক

শারীরিক দিক থেকে সক্ষম না হলে জীবনের গতি সেখানেই স্তিমিত হয়ে যায়। অনেকেই এমনটাই মনে করেন। তবে মনের ইচ্ছা আর ইতিবাচক চিন্তা ভাবনার জোরে সেই সীমা লংঘন করতে সক্ষম হয়েছেন অনেকেই। সর্ব দিক থেকে সক্ষম ব্যক্তি অনেক সময় অলস মস্তিষ্ক কুচিন্তার অধিকারী হয়।

কিন্তু কোন ব্যক্তির যেকোনো অঙ্গের নিষ্ক্রিয়তা শরীরের অন্যান্য অঙ্গ গুলিকে জাগিয়ে তোলে। এমনই একের পর এক নিদর্শন সংবাদের পাতায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখতে পাওয়া যায়। এই ঘটনাগুলি শারীরিক দিক থেকে সক্ষম অথচ নিস্ক্রিয় মস্তিষ্ক সম্পন্ন মানুষের চোখের সামনে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, শারীরিক দিক থেকে সক্ষম হলেই সব নয়। মনের জোর আসল কথা।

বয়স মাত্র ২৪। নাম তার কলবি ভ্যান ভুরিস। স্বঘোষিত হাতবিহীন এবং মানুষ সে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কলবি হাত ছাড়াই অঙ্গ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তবে হাত না থাকার বিষয়টিকে তিনি তার আত্মবিশ্বাসকে প্রভাবিত করতে দেননি। আজ তিনি বিশেষত টিকটকের মত সোশ্যাল মিডিয়া তারকা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন। তাঁর ৮০,০০০ এর বেশি ফলোয়ার রয়েছে এবং তার চ্যানেলটিতে ভিউয়ার্স হয়েছে ১৫ মিলিয়ন এর কাছাকাছি।

ভুরিসের জন্ম হয়েছিল থ্রোম্বোসাইটোপেনিয়া-অনুপস্থিত রেডিয়াস সিনড্রোম (টিএআর) দিয়ে। এটি হলো একটি বিরল জিনগত ব্যাধি, যা হাড়ের বিকাশ এবং বৃদ্ধিকে রোধ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাধিটি সারা বিশ্বে ১,০,০০০ জন মানুষের জন্মের মধ্যে ১ টিরও কম মানুষকে প্রভাবিত করে। যেহেতু তার কোনও বাহুর হাড় নেই, তাই তাঁর হাতগুলি তার কাঁধের প্রান্তিক কাছে সরাসরি তার ধড়ের সাথে যুক্ত অবস্থায় রয়েছে।

কোনও হাঁটুতে জয়েন্ট ছাড়াই ভুরিস জন্মগ্রহণ করেছিলেন। খুব সুন্দর তার জীবনের প্রথমদিকে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি তাঁর চারপাশে লোকদের শিথিল করতে সবচেয়ে ভাল উপায় হ’ল রসিকতা ফাটিয়ে দেওয়া। তিনি বলেছেন, “আমি নিজের সম্পর্কে কৌতুক করি এবং আমি মাঝারি বিদ্যালয়ে নিজেকে আর্মলেস ফ্রিকের নাম দিয়েছি। আমি জানি আমি কিছুটা নির্বোধ চেহারার মানুষ এবং আমার তৈরি ভিডিওগুলি আমার চারপাশে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করার উপায়,”।মেট্রো ইউকে ভুরিস্কে উদ্ধৃত করে বলেছে, তিনি নিজেকে সেভাবেই গড়ে তুলেছেন যেভাবে চেয়েছিলেন।

২৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি আরো বলেছেন, “আমি মানুষকে হাসতে পছন্দ করি, এটি আমার মেজাজকে বজায় রাখে এবং এটি অন্যান্য লোককেও ভাল লাগায়”। তিনি যখন বলেছিলেন যে, “আপনি যখন আমার মতো কেউ হন তখন নিজেকে হাসতে শেখার কারণ লোকেরা নির্বাক কথা বলবে, এবং জীবন অন্য লোকেরা যা মনে করে তা নিয়ে দুঃখ পাবে না।”

চব্বিশ বছর বয়সি তার পরিবারের আট সন্তানের মধ্যে একজন। তাকে তার নিজের পরিবার দত্তক নেওয়ার জন্য রেখেছিল এবং তারপরে তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। শারীরিক দিক থেকে কিছুটা অক্ষম মানুষ অতি সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করেন। যেমন খাবার খেয়ে থাকেন, পোশাক পরেছেন এবং স্নান করেন। তার উপরে ইন্টারনেটের ব্যবহার তো রয়েইছে অবসর সময়ে ব্যবহার করার জন্য।

সম্পূর্ণ নিজের অনুপ্রেরণায় চালাচ্ছেন নিজের জীবন। শারীরিক অক্ষমতার জন্য নিজেকে পিছিয়ে থাকেননি। শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে ও মানুষকে হাসাতে পছন্দ করেন ভূরিস। তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ দর্শকরা। এত কম বয়সী যুবকের শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে সংগ্রাম করে যাওয়ার ঘটনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণা স্বরূপ হয়ে থাকবে।

Check Also

আসছে ২০০ কোটি করোনা প্রতিষেধক! জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

আসছে ২০০ কোটি করোনা প্রতিষেধক! জানাল – বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ড: সৌম্য স্বামীনাথন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *