Thursday , February 9 2023

জগন্নাথ দেবের মূর্তি অসম্পূর্ণ কেন ? জানেন কি ? রইল অজানা ইতিহাস

রথযাত্রা মানেই পুরীর জগন্নাথদেবের রথ টানতে রীতিমত লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম। শুধুমাত্র দেশে নয়, দেশের বাইরে থেকেও প্রচুর ভক্তগণ রথযাত্রার সময় হাজির হন। রথে থাকেন জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা। কিন্তু মূর্তি সম্পূর্ণ নয় অর্থাৎ কাঠে তৈরি মূর্তি অসম্পূর্ণ, কিন্তু কেন ? এর পিছনে রয়েছে ইতিহাস, পাশাপাশি পুরাণ এবং কল্পকাহিনী।পুরাণে রথের কথা পাওয়া যায়। এটি এমন একটি যান যার সাহায্যে স্বয়ং ভগবান এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করেন। যেহেতু এই করে প্রভু এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যান তাই একে বলা হয় রথযাত্রা। রথে থাকেন জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা।

এই তিন ভাই বোনের সম্পর্ক নিয়েও পুরাণে বহু কাহিনী রয়েছে।পদ্মপুরাণে বর্ণিত রয়েছে জগন্নাথ দেবের মূর্তির ইতিহাস। জগন্নাথ ধাম অর্থাৎ শ্রীক্ষেত্র নামের এই মন্দির তৈরি করেছিলেন সত্য যুগের মালব দেশের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন । তিনি ছিলেন বিষ্ণু ভক্ত। কিন্তু তাঁর তৈরি এই মন্দিরে কোন বিগ্রহ ছিল না। একদিন রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন-এর রাজপ্রাসাদে এক সন্ন্যাসী এসে আদেশ দিয়েছিলেন, পুরীর সমুদ্র তটে যে কাঠের খণ্ড ভেসে আসবে তা দিয়ে মূর্তি নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু সন্ন্যাসীর কথা মিলে গেলেও তৈরি হয় সমস্যা।

কারণ প্রচুর হাতি আর সৈন্য দিয়েও সমুদ্র তটে ভেসে আসা সেই কাঠের খণ্ড কেউ নাড়াতে পারেননি। অবশেষে শ্রী হরি স্বপ্নাদেশে পাঠান শবর রাজ বিশ্ববসুকে। সমুদ্রতট থেকে সেই কাঠের টুকরো বিদ্যাপতি, রাজা এবং বিশ্ববসু তিনজন মিলে নিয়ে যান প্রাসাদে।সেখানে উপস্থিত হন এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কাষ্ঠশিল্পী । তিনি রাজার কাছে কয়েকদিনের জন্য সময় চেয়ে নিয়েছিলেন মূর্তি নির্মাণের জন্য । কিন্তু শর্ত দিয়েছিলেন যখন তিনি মূর্তি নির্মাণ করবেন তখন যেন তাঁর কাজে কেউ বাধা না দেয় । তিনি দরজা বন্ধ করে সেই কাঠের মূর্তি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। আর দরজার বাইরে অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে অপেক্ষা করতে থাকেন রাজা-রানী।

প্রতিদিন তাঁরা দেখতেন সেই বন্ধ ঘরের মধ্যে থেকে খোদাইয়ের আওয়াজ আসছে। কিন্তু একদিন সেই আওয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন সকলে। অবশেষে রানী নিজের কৌতুহল চেপে রাখতে না পেরে সেই দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু দেখেন মূর্তির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি অর্থাৎ অর্ধসমাপ্ত মূর্তি রয়েছে। অপরদিকে কাষ্ঠশিল্পীও কোথাও যেন উধাও হয়ে গিয়েছেন। আসলে সেই শিল্পী ছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা। অপরদিকে মূর্তি অসম্পূর্ণ থাকায় মন কষ্টে ভুগতে থাকেন রাজা।

অবশেষে ভক্তের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে স্বপ্নে প্রভু দেখা দিয়ে জানান তাঁর সেই অসম্পূর্ণ মূর্তির পুজো করতে। সেই মূর্তি স্থাপন করতে বলেন পুরুষোত্তম ধামে। অর্ধসমাপ্ত মূর্তি নিয়ে দেবর্ষি নারদ রাজাকে জানিয়েছিলেন এটি পরমেশ্বরের এক স্বীকৃত স্বরূপ । কারণ এই মূর্তির কোন লৌকিক হস্ত নেই, অথচ তিনি সকল দ্রব্য গ্রহণ করতে পারবেন । পা নেই কিন্তু তিনি সব জায়গায় চলতে পারবেন । কান নেই কিন্তু সবই তিনি শুনতে পাবেন। আজও জগন্নাথ দেবের সেই অসম্পূর্ণ মূর্তি পূজিত হয়ে আসছে।

Check Also

মুসলিম মহিলার হাতে শক্তির দেবীর আরাধনা, কালীপুজো ঘিরে এগাঁয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে

এক মুসলিম মহিলার হাতে পূজিত হন মা কালী। তাঁর হাতেই এপুজোর শুরু। বছরের পর বছর ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.