চুল পড়া শীতে আর নয়!

শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় চুল ও মাথার ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়াটা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি চুল পড়াটাও যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে আমাদের কাছে। তবে মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়াটা মেনে নেয়া সত্যিই কষ্টের। অপরদিকে অনবরত পড়তে থাকলে অবশিষ্ট চুলের আগা ফাটার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সবমিলে সৃষ্টি হয় একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। তাই আসুন জেনে নেয়া যাক এই সমস্যার কিছু প্রয়োজনীয় সমাধান।

আলু

চুলের যত্নে আলুর ব্যবহার অত্যান্ত কার্যকরী। মাঝারি আকারের তিনটি আলু ভালো করে ব্লেন্ড করে তার রস নিন। এবার আলুর রসে একটি ডিমের কুসুম, সামান্য পানি ও এক চা চামচ মধু দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। ভেজা চুলে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখতে হবে ৩০ মিনিট। এরপর হাল্কা কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এভাবে সপ্তাহে একবার করে এক মাস ব্যবহার করে দেখবেন, চুল পড়া কমে গেছে অনেকটাই।

মেহেদি পাতা

প্রাকৃতিকভাবে চুলের রঙ ও চুলকে কন্ডিশনিং করার পাশাপাশি মেহেদি পাতা ব্যবহৃত হয়। চুল পড়া কমাতেও মেহেদিপাতা অনেক বেশি কার্যকর। সেজন্য সরিষার তেল ২৫০ মিলিলিটারের সঙ্গে ৬০ গ্রাম মেহেদি পাতা দিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। পাতাগুলো সব পুড়ে কালো হয়ে গেলে মিশ্রণটি নামিয়ে ঠাণ্ডা করুন। এবার একটা পাতলা কাপড়ে ছেকে নিয়ে শুধু তেলটি রাখুন। এই তেল নিয়মিত মাথার ত্বকে ও চুলে লাগালে অস্বাভাবিক চুল পড়া বন্ধ হয়।

পেঁয়াজ ও রসুন

পেঁয়াজ রসুনের মধ্যে থাকা প্রচুর পরিমাণে সালফার নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তাই সমপরিমাণ পেঁয়াজের রস ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এক সপ্তাহে ২ বার করে নিয়মিত ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। অপরদিকে রসুনের ৫ থেকে ৬ কি কোয়া বেঁটে নিন। এবার তাতে নারিকেল তেল দিয়ে কিছুক্ষণ হালকা তাপে ফুটিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হলে মাথার ত্বকে ঘষে লাগান। এভাবে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার লাগাতে হবে। দেখবেন চুল পড়া কমে গেছে অনেকাংশে।

গ্রিন টি

গ্রিন টি শুধু খাওয়ার জন্যই নয় চুলের জন্যও খুব উপকারী। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের বৃদ্ধি ঘটায়। কুসুম গরম পানিতে গ্রিন টি গুলে নির্যাস বের করুন। এবার মাথার ত্বকে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *