Monday , September 20 2021

পাহাড়ের নিচের ঝুপড়ি ঘরই বৃদ্ধ দম্পতির একমাত্র ভরসা

দূর থেকে দেখে ছোট কোনো গোয়ালঘর কিংবা চুলের লাকড়ি রাখার ঘর মনে হলে এখানে বসবাস করেন সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ দম্পতি- সিরাজ মিয়া ও ফাতেমা খাতুন। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বড় বড় পাহাড় আর কিছুটা চাষে সমতল জমি। এর মাঝেই বড় একটি টিলার নিচে প্লাস্টিক কাপড়ে মোড়ানো ছোট্ট একটি ঝুপড়ি ঘর।
ছোট এই ঘরে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে কষ্টসাধ্য। তবু এই ঘরেই বসবাস করেন বৃদ্ধ দুই দম্পতি। স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। তারপরও কোনরকমে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন ছোট্ট এই ঘরেই।

পুরাতন মশারি, প্লাস্টিক কাগজ আর কম্বল জাতীয় কাপড় দিয়ে তৈরি করা এই ছবিঘর। বাসের কাঠামোর উপর তৈরি করা এই ঘরে রয়েছে রান্নাঘর ছোট্ট একটি বাঁশের বিছানা। তার উপরই কোনোরকমে রাত কাটান বৃদ্ধ দুই দম্পতি।

একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে ভেসে যায় পুরো ঘর আর বাতাসে নড়বড়ে এই ঘরের সব কিছুই যেন উড়তে থাকে বাতাসে ‌। এই ঘর এই দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বসবাস করে আসছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আড়াপাড়া গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব দুই বৃদ্ধ।

ঘরে চাল নেই নেই রান্নার কোন সামগ্রী। মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য কিছু সাহায্যেই জ্বলে ঘরে চুলা। এক বেলা খেলে দুই বেলায় জোটে না কোনো খাবার। তারপরও অন্যের দেওয়া জমিতে কোনরকমে জীবনের শেষ সময়ে এসে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এই দম্পতি।

ঘরে নেই কোনো আলোর ব্যবস্থা। অন্ধকার হলেই ভরসা সামান্য কুপি বাতির আলো। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাহাড় আর ঘন জঙ্গলে রয়েছে বন্যপ্রাণী ভয়। বন্যহাতির চলাচল করে বাড়ির উপর দিয়েই‌। কোনোরকমে প্রাণে বাঁচলেও ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটান তারা।

জীবনের শেষ সময়ে এসে এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আশ্রয় কামনা করছেন বৃদ্ধ দম্পতি। একই অবস্থা মানসিক ভারসাম্যহীন ফিরোজা খাতুনের। স্বামীহারা এই বৃদ্ধা কোনো রকমে বসবাস করছেন অন্যের দেওয়া জায়গার উপর। মাটির তৈরি ঘর ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ঘরে জমিয়ে হাঁটু সমান পানি।

তারপরও বাধ্য হয়েই এই ঘরে বসবাস করছেন ফিরোজা। পুরো ঘর জুড়ে নেই কোনো দরজা জানালা। রাতের আধারে খোলা থাকে পুরো ঘর। তাই সহজেই জীবজন্তুরা ঢুকে পরে ঘরের ভেতর। অবস্থায় অসহায় এখন প্রধান মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে দিন পার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হিরন মিয়া জানান, পরিবারগুলো খুবই নিতান্ত গরীব। মানুষের সাহায্যে কোন রকম বেঁচে আছে পরিবারগুলো। তারা এক বেলা খেলে আরেক বেলা খেতে পারে না। সরকারিভাবে যদি কোনো সাহায্য পায় তাহলে জীবনের শেষ সময় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে।

তাছাড়া এই এলাকার বেশিরভাগ মানুষই হতদরিদ্র তাই সবাই ইচ্ছা থাকলেও সাধ্যমত পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে পারে না। আমার স্থানীয়রা চেষ্টা করছি পাশে দাঁড়ানোর তারপরও স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে তাদের জন্য আরও সহজ হবে।

গৃহহীন সিরাজ মিয়া জানান, আমরা গরীব। আমাদের থাকার কোনো ঘর নাই জমি নাই। অন্যের জমির উপর ভর করে আমরা আছি। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে তারপর পশুপাখির ভয়। ছোট একটা ঘরে মধ্যেই রান্নাবাড়া খাওয়া-দাওয়ার এবং ঘুম সবকিছুই কষ্ট করে করি। এমনি আমাদের বয়স ৭০ এর উপরে। তার ওপর রাতেও ঠিকমতো কোন কিছু দেখি না। তাও একটা কুপি বাতির আলোতে কোনরকম রাত কাটায়। যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকে একটু দৃষ্টি দেয় তাহলে আমরা কোনরকমে বাঁচতে পারতাম।

এ ব্যাপারে ইউএনও রাজিব উল আহসান জানান, আমি এরইমধ্যে দুর্গাপুর উপজেলার প্রতিটি ইউপিতে দরিদ্র হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহযোগিতার উপহার পৌঁছানো হয়েছে। তাছাড়া ঈদ উপলক্ষে ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে বিশেষ ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

এর মাঝেও কুল্লাগড়া ইউপিতে দরিদ্র পরিবারের কথা শোনার পর পরই তাৎক্ষণিক পরিবারগুলোর মাঝে তাৎক্ষণিক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই করার ব্যাপারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।

Check Also

রেললাইনের ওপর কোনো পশুপাখি বা মানুষ দেখেও কেন ড্রাইভাররা ব্রেক মারেন না জানেন কি? রইল বিস্তারিত।

আপনারা যারা বা আমরা যারা ট্রেনের পরিসেবা গ্রহণ করে থাকি তার একটা জিনিস ভালো মত ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *