Sunday , February 5 2023

গোকর্ণের এই মা কালী আজও বড় জাগ্রত !

শ্যামাকালীকে তো আমরা সকলেই জানি। কিন্তু শ্যামরায় কালী নামেও এক কালী প্রতিমা বাংলায় রয়েছে। মুর্শিদাবাদের অন্যতম প্রাচীন গ্রাম গোকর্ণ সেই পুরাকাল থেকেই শক্তি আরাধনার জন্য সুপ্রসিদ্ধ। এখানেই সেই শ্যামরায় কালী মন্দির। আর এই মন্দির বিখ্যাত তো বটেই, সেইসঙ্গে খুবই জাগ্রত।
ইতিহাসের পাতা বলে, রাজা শশাঙ্কের এই গ্রামে সুবৃহৎ গোশালা ছিল। সেই থেকেই নাম, গোকর্ণ। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে শক্তি আরাধনার ইতিহাসও জানা যায়। এ গ্রামের চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সে ইতিহাসের ছাপ। শ্যামরায় কালী যার অন্যতম। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ নাকী এই মন্দির এসে মায়ের কাছে যা চায় তাই পায়। অশান্ত মানুষ শান্তি খুঁজে পায় এখানে এসে।

এই বিশ্বাস যে মোটেই ফাঁপা নয়, ইতিহাসের শুরুটা জানলেই তা বোঝা যায়। জানা যায়, আজ থেকে তিন/চারশো বছর আগে গোকর্ণ এলাকায় একটি শ্মশান ছিল। সেখানে হটেশ্বর রায় নামক জনৈক অবস্থাপন্ন গৃহস্থ শ্মশানকালীর মূর্তি স্থাপন করে পুজো শুরু করেছিলেন। স্থানীয় লোকজন এই কালীকে ডাকত, “হাটুরায় কালী” বলে। শ্মশানে একটি রত্ন বেদীতে দেবীর পুজো হত। কিন্তু এরপরই শ্যামাচরণ রায় নামক অন্য এক ব্যক্তি মা কালীর স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে “হাটুরায় কালীকে” নিজ গৃহে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শ্যামাচরণ তাই করলে ক্রমে ক্রমে কালীমূর্তিটি শ্যামরায় কালী নামে পরিচিতি লাভ করে।

শ্যামরায় প্রতিষ্ঠিত মন্দিরে দেবী সারাবছরই বিরাজমান, তাঁর নিত্যভোগের ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও কার্তিক মাসের দীপান্বিতা অমাবস্যা দেবী আরাধনার প্রশস্ত একটি তিথি, কিন্তু প্রতি শনি-মঙ্গলবারেই এ মন্দিরে উপচে পড়ে ভিড়। স্বাভাবিকভাবেই দেবীর বিসর্জনের বালাই নেই।

সামনেই দীপান্বিতা অমাবস্যা। তা আসবেন নাকী একটিবার ঘুরে? যদি চান তাহলে রইল পথ নির্দেশিকা: গোকর্ণ মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর-কান্দি রাজ্য সড়কের ধারে স্থিত। প্রচুর বাস রয়েছে। গোকর্ণ হসপিটাল বা বায়েনপাড়া স্টপেজে নামলেই পাওয়া যাবে টোটো। সেখান থেকে সোজা এই মন্দির।

Check Also

মুসলিম মহিলার হাতে শক্তির দেবীর আরাধনা, কালীপুজো ঘিরে এগাঁয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে

এক মুসলিম মহিলার হাতে পূজিত হন মা কালী। তাঁর হাতেই এপুজোর শুরু। বছরের পর বছর ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.