Friday , July 23 2021

এক সময়ের হিট নায়িকার করুণ পরিণতি, এইডসে মৃ’ত্যু হয়

মানুষের জীবন সবসময় একরকম যায় না তার জ্ব’লন্ত উদাহরণ, যাকে অন্ধকার জগতে নামতে বাধ্য করেছিলেন একাধিক পরিচালক এবং প্রযোজক। অথচ নিশা নুর নামে ওই দক্ষিণী অভিনেত্রী তখন দক্ষিণী সিনেমার বিখ্যাত নাম।

কমল হাসান, রজনীকান্ত সহ একাধিক শীর্ষ নায়কের সঙ্গে কাজ করেছিলেন নিশা। তামিল, তেলেগু এবং মালায়ালম-তিন ভাষার ছবিতেই অভিনয় করতেন তিনি। বালাচন্দ্রণ, ভিশু, চন্দ্রশেখরের মতো তখনকার সময়ে নামী সব পরিচালকের ছবিতে কাজও করেছিলেন।

গ্ল্যামার আর বিখ্যাত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ফিল্মি ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন নীশা। বরাবরই স্বপ্ন দেখতেন কমল হাসান, রজনীকান্তদের সঙ্গে সিনেমা করার। ৮০-র দশকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখা নিশা ১৯৮৬ সালে কল্যানা আগাথিগাল, ১৯৯০ সালে আইয়ার দ্য গ্রেট এবং ১৯৮১ সালে টিক টিক টিক-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে যথেষ্টই খ্যাতি পেয়েছিলেন নিশা। এহেন নিশা আচমকাই নি’খোঁজ হয়ে যান।

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পরে চেন্নাইয়ের রাস্তার ধারে একটি দরগার সামনে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। গ্ল্যামারার্স নিশার চেহারা তখন একেবারেই অস্থি-চর্মসার। মাথা থেকে শরীর সর্বত্র উঁকুনে ভর্তি। ঠিক করে কথাও বলতে পারছিলেন না নিশা। চেন্নাইয়ের তামাবারামে একটি হাস’পাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। যাবতীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষার পর জানা যায় নিশার শরীরে বাসা বেঁধেছে মা’রণব্যা’ধি এডস।

খ্যাতির শিরোনামে থাকার সময়ই নিশাকে অন্ধকার জগতের ব্যবসায় নামতে বাধ্য করেছিলেন কয়েকজন প্রযোজক এবং পরিচালক। দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও জানাজানি হয়ে যায় তার খবর। এর জেরে নিশার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করেন প্রথমসারীর নায়করা। এমনকী, অন্যান্য সব অভিনেতা-অভিনেত্রীও আস্তে আস্তে নিশার সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকার করেন।

হাতে কাজ না থাকায় আর্থিক অনটনে পড়েন নিশা। এর পরেই আচমকা একদিন নি’খোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন এই নায়িকা। রাস্তার ধার থেকে উদ্ধার হওয়ার সময় নিশার শারীরিক অবস্থা ভাল ছিল না। এডসে আক্রান্ত নিশা ২০০৭ সালে মারা যান। ফিল্মি ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া নিশাকে শেপর্যন্ত নিজের জীবন দিয়েই এর মূল্য চোকাতে হয়। নিশার মতো হাল যেন কারোর না হয়, তা আজও নাকি প্রার্থনা করেন অভিনেত্রীরা।

Check Also

খেতে না পাওয়া গরিব যুবককে কোটিপতি বানিয়ে দিলো পোষা কুকুর!

বেজিংয়ের কাছে এক পরিত্যক্ত বাড়ি। আশপাশে কেউ ঘেঁষতও না এতদিন। সেখানেই এখন বিশাল ম্যানসন। মে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *