Sunday , July 3 2022

এই শ্মশান কালী মাতার মাহাত্ম জানলে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে, যার দর্শন মাত্রই ভক্তদের ইচ্ছা পূরণ হয়।

এটা বলা হয় যে যে ভক্ত মাতা কে তার পবিত্র মন থেকে ডেকে থাকলে মাতা তার ডাক অবশ্যই শুনে থাকে দেখা গেলে মায়ের মন খুবই কোমল হয়ে থাকে এবং মা কখনোই তার সন্তানের কষ্ট দেখতে পারে না তাই কোন ভক্ত যদি তার পবিত্র মন থেকে মাতাকে ডেকে থাকে মাতা তার সমস্ত কষ্ট দূর করতে অবশ্যই উপস্থিত হয়।আজকে আমরা আপনাকে এমন এক অদ্ভুত মন্দির এর ব্যাপারে বলতে যাব যেখানে মাতা তার ভক্তদের সমস্ত মনোকামনা পূরণ করে থাকে,

আসলে আমরা আপনাকে যেই মন্দিরের সম্বন্ধে বলতে যাচ্ছি সেই মন্দির বিহারের দ্বারভাঙ্গা শহরের চিতার উপর স্থিত মন্দির।এই জায়গার উপর ভক্তদের আস্থা জুড়ে আছে এবং এটি আস্থার মুখ্য কেন্দ্র। দ্বারভাঙা রাজপরিবারের মহারাজ রামেশ্বর সিং এর শ্মশান ভূমির ওপর স্থিত এই মন্দির শ্যামা মায়ের মন্দির নামে বিখ্যাত।

এখানে ভক্তরা মাতার দরবারে নিজের ইচ্ছা পূরণের জন্য এসে থাকে। যদিও পুরো বছর ধরেই মাতার এই দরবারে ভক্তদের ভিড় থেকে থাকে তা সত্ত্বেও নবরাত্রির দিনগুলোতে এখানে সব থেকে বেশি ভিড় হয়ে থাকে, এই মন্দিরের ভিতরে মাতা কালীর ভব্য প্রতিমা স্থিত আছে। এখানকার স্থানীয় লোকে মান্যতা আছে যেযদি কোন ব্যক্তি শুদ্ধমনে মাকে ডেকে থাকে তবে মাতা তার মনোকামনা অবশ্যই পূরণ করেন।

শ্যামা মায়ের দর্শনে ভক্তদের এক অদ্ভুত সুখের প্রাপ্তি ঘটে, এই মন্দিরের ভেতরে মাতা এক শ্মশান ভূমি তে বিরাজমান। এখানে ভক্তরা নিজের মনোকামনা পূরণ করতে তো আসেই এছাড়াও মুন্ডন এবং মাঙ্গলিক এর মত কাজ ও এখানেই করতে আসে। মানা হয় যে মুন্ডন এবং বিবাহর মতন শুভ কাজের পরে ব্যক্তিকে দীর্ঘ ১বছর না কোন শ্রাদ্ধ বাড়িতে যাওয়া উচিত না কোন দাহ্য সংস্কারে ভাগ নেওয়া উচিত। এই মন্দিরের ভেতরে সারা বছরই এক ধার্মিক অনুষ্ঠান এবং কার্য ঘটে থাকে।

এটা বলা হয়েছে এই মন্দিরের স্থাপনা দ্বারভাঙ্গা এর মহারাজা রামেশ্বর সিং হ ১৯৯৩ সালে করিয়েছিলেন। এই মন্দিরের ভিতরে শ্যামা মায়ের বিশাল মূর্তি ভগবান শিবের বক্ষস্থল এর উপরে স্থিত মায়ের ডান দিকে মহাকাল এবং বাঁদিকে গণেশ জি এবং বাটুকের প্রতিমা স্থিত আছে। শ্যামা মায়ের মন্দিরে আরতির এক বিশেষ মহত্ব আছে।

মায়ের আরতিতে যোগ দেওয়ার জন্য ভক্তরা এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে থাকে কারণ এটা মান্যতা আছে যে মায়ের আরতির যে সাক্ষী হয়ে থাকে তার সমস্ত মনোকামনা পূরণ হয়ে থাকে এবং তার জীবনের সমস্ত অন্ধকার এবং কষ্ট দূর হয়ে থাকে**

এই মন্দিরের প্রতিটি লোকের মধ্যেই মায়ের প্রতি এক অটুট বিশ্বাস লক্ষ্য করা যায়।এই মন্দিরের ভিতরে শ্যামা মায়ের পূজা তান্ত্রিক এবং বৈদিক উভয় রূপেই করা হয়। যদিও হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তির শ্মশান ভূমি তে যাওয়া নিষিদ্ধ কিন্তু শ্মশান ভূমিতে স্থিত মায়ের এই মন্দিরে নব বিবাহিত দম্পতিরা মায়ের আশীর্বাদ নিতে আসে শুধু এই নয় এই মন্দিরের ভেতরে বিবাহ ও সম্পন্ন হয় বিশেষজ্ঞদের মতে শ্যামা মা হল মা সীতার রূপ।

Check Also

এই গোপন মন্ত্র পাঠ করলে হয়তো আপনি ভগবান হনুমানের দর্শন পেতে পারেন

ঈশ্বরকে হয়তো আমরা কেউই চোখে দেখিনি। তবু বহু মানুষ বিশ্বাস করেন ঈশ্বর আছে বলে। এমন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.