Wednesday , July 6 2022

এই মন্দিরে মাটি ফুঁড়ে বের হয়েছিল শিবলিঙ্গ, প্রতি বছর বাড়ে এর দৈর্ঘ্য!

Sing Maheshwari Mandir-এর নাম শুনেছেন অনেকে। এটি শিবের বিভিন্ন মন্দিরের মধ্যে অন্যতম ও চমৎকারী। গুপ্তযুগে এই মন্দির স্থাপিত হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই
Mahadev-এর ভক্তিতে মগ্ন থাকেন অনেকেই। তাঁদের মনের বদ্ধমূল ধারণা, ভোলানাথের কাছে একবার প্রার্থনা করলে তা পূরণ হবেই। এ কারণে শিবলিঙ্গ, জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনে উপচে পড়ে নীলকণ্ঠের ভক্তদের ভিড়। ভারতে শিবের একাধিক মন্দির রয়েছে। শিবের কোনও কোনও মন্দির মানব নির্মিত। আবার কিছু মন্দির স্বয়ম্ভূ। ভারতের ১২টি স্থানে শিব জ্যোতি রূপে প্রকট হয়েছিলেন। এটিই দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ নামে পরিচিত। তবে নির্বিকার, ওংকার, নিরাকার শিবের আর একটি মন্দির রয়েছে যা অত্যন্ত চমৎকারী। মনে করা হয় এখানে প্রতি বছর শিবলিঙ্গের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়।

শিবের এই মন্দিরটি উত্তর প্রদেশের হমীরপুরে অবস্থিত। এটি সিংহ মহেশ্বর মহাদেব মন্দির বা সিংঘমহেশ্বরী মহাদেব মন্দির নামে পরিচিত। এখানে যমুনার তীরে শিব ও পার্বতীর প্রাচীন মূর্তি অবস্থিত। এই মন্দিরে চন্দন গাছ নিজে থেকেই গজিয়ে ওঠে। মন্দিরের আশপাশে গজিয়ে ওঠা শতাধিক চন্দন গাছ দিয়েই শিব ও পার্বতীর শৃঙ্গার করা হয়ে থাকে। মনে করা হয়, এখানে মানত করলে তা অবশ্য পূর্ণ হয়।

যমুনার তীরে এই মন্দির অবস্থিত। এখানে শিব-পাবর্তীর মূর্তি রয়েছে। ঐতিহাতিকদের মতে গুপ্ত যুগে এই মন্দির তৈরি করা হয়েছিল। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই মন্দিরে যে শিবলিঙ্গ রয়েছে তা জমি ফুড়ে নিজে থেকে উঠে আসে এবং অদ্ভূত পাথরের রূপ নিয়ে নেয়। প্রতি বছর এই শিবলিঙ্গের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়। চালের একটি দানার সমান দৈর্ঘ্য বাড়ে প্রতি বছর। জমি ফুড়ে বেরিয়ে এসেছিল বলে এখানে অবস্থিত শিবলিঙ্গকে পাতালী শিবলিঙ্গ বলা হয়।

প্রচলিত কাহিনি
এই মন্দিরের সঙ্গে নানান কাহিনি জড়িত। তবে একটি কাহিনি অনুযায়ী একদা যমুনায় বন্যা দেখা দেওয়ায় এখানে বসবাসকারী জনগণ ও সাধুরা শিবলিঙ্গকে অন্যত্র স্থাপিত করার পরিকল্পনা করেন। তখন শিবের সামনে প্রার্থনা করে সেই স্থানের খোদাই শুরু হয়, কিন্তু শিবলিঙ্গের কোনও অন্ত খুঁজে পাওয়া যায় না। তখন কর্মী ও সাধুরা পরাজয় স্বীকার করে নেন। তার পর থেকেই শিবলিঙ্গকে ঘিরে মন্দির তৈরি করা হয়। এখানে ব্যক্তির সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়। এই মন্দিরের মহন্তের গুরু প্রায় ৪০ বছর আগে একটি চন্দন গাছ লাগিয়ে ছিলেন। তার পর থেকে এখানে নিজে থেকেই নতুন চন্দন গাছ বাড়তে দেখা যায়। এই মন্দিরের আশপাশে নিজে থেকেই একাধিক চন্দন গাছ বেড়ে ওঠে। একে শিবের আশীর্বাদ মনে করা হয়।

চমৎকারী শিবলিঙ্গের দর্শন করার জন্য দূর দূর থেকে ভক্ত সমাগম হয়। ভাঙ, ধুতুরা, ফুল, চন্দন অর্পণ করে ভক্তরা এখানে শিবের অভিষেক করে থাকেন। এখানে কোনও ব্যক্তি মানত করলে, শিব তা পূর্ণ করেন।

Check Also

জন্মাষ্টমীর দিন এই জিনিসটি অবশ্যই বাড়িতে রাখুন, সুখ ও সম্পদে ভরে উঠবে সংসার

জন্মাষ্টমীর দিন ছাড়া ভারতবর্ষজুড়ে ছোট্ট গোপালের আরাধনা করা হয়। কেউবা পুত্ররূপে আবার কেউবা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.